আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিমান হামলায় শনিবার নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। প্রাণ গিয়েছিল তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতনিরও। সেই সঙ্গেই জানা গিয়েছিল খামেনেইয়ের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হল, এই তথ্য ভুয়ো। বেঁচে রয়েছেন খামেনেই জায়া মনসুরেখ খোজাস্তে বাঘেরজাদে। অথচ ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলেই তাঁর প্রয়াণ সংবাদ শোনানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইরানের রাজধানী তেহরানে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হানার মূল লক্ষ্য ছিলেন খামেনেই। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারি ভাবে বিবৃতি দিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।’’ এরপর সামনে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট। সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম মানুষগুলোর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। …চেষ্টা করেও উনি আমাদের গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে পারেননি।’ পরে ইরানের তরফেও স্বীকার করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার কথা। সেই সঙ্গেই জানা যায়, খামেনেইয়ের মেয়ে, জামাই এবং নাতনি মারা গিয়েছেন। পরে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, মনসুরেখও প্রবল জখম। তিনি কোমায় রয়েছেন। শেষপর্যন্ত জানানো হয়, মৃত্যুই হয়েছে তাঁর। এদিন ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এই দাবি নস্যাৎ করল।
জানা গিয়েছিল খামেনেইয়ের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হল, এই তথ্য ভুয়ো। বেঁচে রয়েছেন খামেনেই জায়া মনসুরেখ খোজাস্তে বাঘেরজাদে।
এদিকে এমনও শোনা গিয়েছিল খামেনেইয়ের পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া মোজতবা খামেনেই নাকি মার্কিন-ইজরায়েল হামলায় গুরুতর জখম হয়ে কোমায় চলে গিয়েছেন। কিন্তু সেই গুঞ্জনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার তিনি বার্তা দেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যাবতীয় সামরিক ঘাঁটি বন্ধ রাখতে হবে। নয়তো সেখানে হামলা হবেই। এহেন রণংদেহি বার্তা প্রকাশ করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে মোজতবা সুস্থই রয়েছেন।
