এক্টোপিক প্রেগনেন্সি। এমন এক ধরনের গর্ভাবস্থা, যেখানে জরায়ুর বাইরে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন ভ্রূণ ফ্যালোপিয়ান টিউবে বাড়তে থাকে। সঠিক সময়ে বের না করা হলে অত্যধিক রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মায়ের মৃত্যুও হতে পারে। সাধারণভাবে এমন ভ্রূণের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম। প্রতি ৩০ হাজারে একটি ক্ষেত্রে এমন গর্ভাবস্থা দেখা যায়। এমনকী, সারা বিশ্বে প্রতি দশ লক্ষে একজন শিশু এই ধরনের ক্ষেত্রে সুস্থভাবে জন্মাতে পারে। বিষয়টা এতটাই বিরল। আর সেটাই ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। সুজে লোপেজ আর অ্যান্ড্রু লোপেজের শিশুপুত্র রিউ আক্ষরিক অর্থেই যেন ‘মিরাকল বেবি’!
ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ডের বাসিন্দা সুজে পেশায় নার্স। ৪১ বছর বয়সি সুজে তরুণী বয়স থেকেই জরায়ুতে একাধিক সিস্টের সমস্যায় ভুগছেন। কয়েক বছর আগে অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হয়েছে ডানদিকের ডিম্বাশয়। সিস্টের অস্ত্রোপচারও হয়েছে বার কয়েক। চলতি বছরের মাঝামাঝি ফের উদর স্ফীত হতে শুরু করলে সুজে আমল দেননি। ভেবেছিলেন, ফের সিস্টের সমস্যা। অস্ত্রোপচার করে ঠিক করে নেওয়া হবে। তা ছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আর কোনও লক্ষণও দেখা যায়নি তাঁর শরীরে। কিন্তু একটা সময় পর, দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ওজন বেড়ে যায় প্রায় ১০ কেজি। শেষে ডাক্তারের কাছে যান সুজে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি ফের উদর স্ফীত হতে শুরু করলে সুজে আমল দেননি। ভেবেছিলেন, ফের সিস্টের সমস্যা।
তখনই জানা যায়, তিনি ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর ‘এক্টোপিক প্রেগনেন্সি’র কারণে তাঁর সন্তান বাড়ছে লিভারের কাছে অ্যামনিওটিক থলিতে। সুজের স্বামী অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, "খুবই চিন্তায় ছিলাম। প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছিল। কারণ জানতাম, যে কোনও সময়ে স্ত্রী বা সন্তানকে হারাতে পারি।" কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সব কিছুই হয়নি। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জন্ম নেয় রিউ। অন্যদিকে সেরে ওঠেন সুজে-ও। বর্তমানে রিউ সম্পূর্ণ সুস্থ। তার দিদি কাইলার সঙ্গে খেলতেই ব্যস্ত থাকে দিনভর। সন্তুষ্ট লোপেজ দম্পতিও। তাঁদের কথায়, "ঈশ্বরের দেওয়া এই অলৌকিক উপহার আমাদের কাছে সর্বকালের সেরা উপহার।"
