সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও এখনও সংকটেরও আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “খামেনেইকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি আহত। তবে তিনি বেঁচে আছেন। তাঁকে গোপন ঘাঁটিতে রেখে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে তিনি তাঁর পিতার মতো শক্তিশালী নন। তিনি একজন দুর্বল নেতা।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসে’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু প্রথম দিনেই আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তাঁর বাসভবনেও আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। সেখানেই ছিলেন তাঁর পুত্র মোজতবা। কিন্তু তিনি কোনও মতে প্রাণে বেঁচে যান। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, মোজতবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর একটি পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, একটি কৃত্রিম পায়েরও প্রয়োজন হতে পারে।
এখানেই শেষ নয়। মোজতবার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে। যদিও সেটি ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। তার মুখ এবং ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে। ফলে সেভাবে কথা বলতে পারছেন না তিনি। প্রতিবেদনটি দাবি করা হয়েছে, তাঁর আরও প্লাস্টিক সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পাজাশকিয়ান, যিনি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, এবং সেদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও মোজতবার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁদের অবস্থান প্রকাশ্যে চলে আসার ভয়ে এবং হামলার আশঙ্কায় তাঁরা কেউই এখন মোজতবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও মুখ খুলেছেন নেতানিয়াহু। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, যুদ্ধের জেরে হরমুজে যে এরকম সংকট হতে পারে, তা ইজরায়েল বা আমেরিকা কেউই অনুমান করতে পারেনি। তবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, "যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং ইরানের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। যদিও তেহরানকে এখন আমরা অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছে। দেশশির কোমর ভেঙে গিয়েছে।"
