জেলে দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে সম্প্রতি। এই মর্মেই পাক সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ল রিপোর্ট।
পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশ আদিয়ালা জেলে তাঁর উপর অত্যাচার চলছে বলে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ তুলে আসছেন ইমরান। তার ভিত্তিতেই পাক সুপ্রিম কোর্ট এক আইনজীবীকে নিয়োগ করেছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আইনজীবীর তৈরি সেই রিপোর্ট তারা ঘেঁটে দেখেছে। তাতেই বলা হয়েছে, ইমরান ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৮৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন! পরিস্থিতি যে এতটা খারাপ হয়েছে, তার কারণ জেল কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো ইমরানের চিকিৎসা করাননি।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপোর্ট বলছে, ইমরানই আদালতের নিয়োগ করা আইনজীবীকে জানিয়েছেন, মাস তিন-চারেক আগেও তাঁর দু'চোখে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু তার পর থেকেই ঝাপসা দেখতে শুরু করেন তিনি। বিষয়টি জেল সুপারকে জানিয়েওছিলেন ইমরান। কিন্তু পদক্ষেপ করা হয়নি।
ইমরান গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর নেতৃত্বও। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ইমরানের এই চোখের সমস্যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর। এই রোগের চিকিৎসা সময়মতো না করা গেলে চিরদিনের মতো দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন তিনি। জেল কর্তৃপক্ষের তরফে জেল প্রাঙ্গনে চিকিৎসা করানোর কথা জানানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই রোগের চিকিৎসার জন্য যে রকম সরঞ্জাম এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজন তা জেলে করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতির কারণে ইমরানের জেল হয়। তার পর ২০২৪ সালে এক বার তাঁর চিকিৎসককে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল। তারপর তাঁর এই ডাক্তার-সাক্ষাতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কোর্ট।
