যন্ত্র বিকল। দ্রুত গতিতে নেমে আসছে বিমান। সাক্ষাৎ মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর উদ্দেশে পাইলটের শেষ বার্তা ছিল, 'ওঁকে বলে দিও ভালোবাসি...'। যদিও বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও কপালজোরে রক্ষা পেলেন দুই পাইলট। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার জর্জিয়া শহরে। শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত রাস্তায় উপর অবতরণ করে বিমানটি। রাস্তায় একের পর এক গাড়ির সঙ্গে পরপর ধাক্কা খায় সেটি। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়।
গত সোমবার এই ঘটনা ঘটেছে জর্জিয়ার গেইনসভিল শহরে। জানা গিয়েছে, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পর এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট ছোট এই বিমানটিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। বিমানবন্দরে ফিরে আসার মতো অবস্থা ছিল না বিমানটির। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে সামনের একটি সড়কে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। তার আগে বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উদ্দেশে বার্তা দেন পাইলট। জানান, "বেঁচে ফেরার আশা নেই। দয়া করে আমার স্ত্রী মলিকে বলে দেবেন, আমি তাঁকে ও আমার বাবা-মাকে ভীষণ ভালোবাসি।"
দুর্ঘটনার যে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যস্ত সড়কের উপর বেসামাল ভাবে অবতরণ করছে একটি ছোট বিমান। সংঘর্ষ এড়াতে রাস্তায় থাকা গাড়িগুলি দ্রুত সরে যাচ্ছে। তারপরও পরপর গাড়িতে ধাক্কা খায় বিমানটি। ভেঙে যায় বিমানের পাখা ও অন্যান্য অংশ। যদিও দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার সময় বিমানে ছিলেন দু'জন পাইলট। একজন রজার ও অন্যজন ট্রেনি পাইলট।
পাইলট রজার বলেন, গেইনসভিলের কাছে আসতেই আমাদের বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আমরা পিছনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারি যেখানে আমরা রয়েছি সেখান থেকে পিছনে ফেরা সম্ভব নয়। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তাতেই অবতরণের সিদ্ধান্ত নেই আমরা।"
