ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখরাঙানিতে রুশ তেল কেনা থামিয়ে দেবে ভারত! বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেতেই এই আলোচনা চলছে কূটনৈতিক মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও দাবি করেছেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত। তবে সেই দাবি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তাঁর কথায়, ট্রাম্প ছাড়া আর কেউই দাবি করেনি যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত।
বুধবার হোয়াইট হাউসের বিবৃতি উল্লেখ করে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ধার্য হবে ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার পরে গুদাম থেকে বার করা পণ্যের উপর। পারস্পারিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে, সেই শুল্কহার কার্যকর হবে। এহেন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, রুশ তেল কেনা নিয়ে এবার কী পদক্ষেপ করবে ভারত? কারণ রুশ তেল না কেনা এবং পাঁচ বছরে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য কেনার শর্তে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা। ভারত কি সেই শর্ত না মেনে রুশ তেল আমদানি করা চালিয়ে যাবে?
জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। বুধবার তিনি স্পষ্ট বলেন, "একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই গোটা বিশ্বে বলে বেড়াচ্ছেন যে ভারত নাকি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত 'বন্ধু' রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প ছাড়া আর কেউই একথা বলছেন না। ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন হচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই।" রুশ বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ভারতের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
"একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই গোটা বিশ্বে বলে বেড়াচ্ছেন যে ভারত নাকি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত 'বন্ধু' রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প ছাড়া আর কেউই একথা বলছেন না।"
উল্লেখ্য, দিনদুয়েক আগেই বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি বলেন, “জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য। যাতে ভারতের সমস্ত নাগরিক এবং শিল্পক্ষেত্র পর্যাপ্ত জ্বালানি পায়। শুধু তা-ই নয়, সেই জ্বালানি যেন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে নির্ভরযোগ্য সেটাও নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।” ভারত যে রাশিয়া থেকে তেল কিনবে, সেই নিয়ে স্পষ্টভাবে কোনও জবাব অবশ্য মেলেনি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের স্বার্থেই আমেরিকা থেকে তেল কেনা হবে। সেকথার অর্থ কি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়া?
