রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। ক'দিন আগে ঘোষণা করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্রের খবর, সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে দিল্লি। ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানিসংকটে মস্কোর থেকে অতিরিক্ত ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনছে মোদি সরকার। এর ফলে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার পর পালটা কৌশল হিসাবে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই অবস্থায় বিপদ এড়াতে হরমুজে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে আটকে পড়েছে ভারতমুখী বহু তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ। উল্লেখ্য, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই অবস্থায় বিকল্প হিসাবে রুশ তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভেসে থাকা রুশ জাহাজগুলি দিল্লিকে অতিরিক্ত ৩০ মিলিয়ান ব্যারেল তেল সরবরাহ করবে।
রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লি জানিয়ে দেয়, তেল কেনার বিষয়ে তারা স্বাধীন। অন্যদিকে আমেরিকার মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যে রাশিয়ার তেলের বাজার বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তাতেই আবার ছাড়! বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তে আমেরিকা বার বার তাদের ‘সিদ্ধান্তের’ পক্ষে সাফাই দিয়েছে। তারা এ-ও জানিয়েছে, ‘অনুমতি’ নয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ব্যাপারে ভারতকে ‘অনুরোধ’ করা হয়েছে।
আগেই সরকারি সূত্র জানা গিয়েছিল, ৪০টি দেশ থেকে ঘুরপথে জ্বালানি নিয়ে আসা হচ্ছে সরবরাহ মসৃণ রাখার জন্য। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালানি তেল ঘুরপথে আসছে। ঘটনাচক্রে, এই আবহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়লও আশ্বস্ত করেছেন যে, অন্যান্য দেশে জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট তৈরি হলেও ভারতে এখনও সে রকম কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
