নেদারল্যান্ডসের পর নরওয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে ফের প্রশ্ন উঠল ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে। সোমবার নরওয়ে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এক সাংবাদিক। যদিও সেই প্রশ্নের জবাব দেননি মোদি। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিদেশমন্ত্রকের বিশেষ সচিব সিবি জর্জ। তাঁর কথায়, অপ্রাসঙ্গিক কিছু এনজিওর তথ্যে ভিত্তিতে এহেন প্রশ্ন করছেন বিদেশি সাংবাদিকরা।
দিনকয়েক আগে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) ২০২৬-এর বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকের মানদণ্ডে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৫৭-তে। শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। দ্বিতীয় স্থানে নেদারল্যান্ডস। রবিবার নেদারল্যান্ডস সফর শেষ করেছেন মোদি, সোমবার পা রেখেছেন নরওয়েতে। এই দুই দেশেই মোদির সফর চলাকালীন প্রশ্ন তোলা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে। মোদি নেদারল্যান্ডসে পা রাখার আগেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন বলেছিলেন, কেবল ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, ভারতীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও ডাচ সরকার যথেষ্ট চিন্তিত। এই বিষয়গুলি নিয়ে নয়াদিল্লিকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন জেটেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সিবি জর্জকে এক ডাচ সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা রয়েছে। সেকারণেই কি মোদি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি? জবাবে জর্জ সাফ জানিয়ে দেন, “আসলে এই প্রশ্নগুলো আমাদের শুনতে হয় কারণ প্রশ্নকর্তার জ্ঞানের অভাব রয়েছে।" নেদারল্যান্ডসের পর নরওয়েতে গিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন শুনতে হয় জর্জকে। তাঁকে সাফ জিজ্ঞাসা করা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে ভারতকে কি আদৌ বিশ্বাস করা যায়?
অসলোর সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্নে চাঁচাছোলা জবাব দেন জর্জ। তিনি বলেন, "ভারতে প্রচুর সংবাদমাধ্যম রয়েছে। শুধু দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি নিউজ চ্যানেল রয়েছে তারা প্রত্যেক দিন ব্রেকিং নিউজ চালায়। সমালোচকরা তাদের মধ্যে একটা-দুটো রিপোর্ট পড়েন, যেগুলো কোনও মূল্য়হীন এবং অপ্রাসঙ্গিক এনজিওর দ্বারা তৈরি করা। আমাদের সংবিধান সকলকে সমানাধিকার দিয়েছে।" এই জবাব শুনে সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান ওই সাংবাদিক।
