সংঘর্ষবিরতির ভবিষ্যৎ সুতোয় ঝুলছে। যেকোনও মুহূর্তে আবারও শুরু হয়ে যেতে পারে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তান-সহ অন্যান্য দেশগুলি প্রাণপণ চেষ্টা করছে যেন ওয়াশিংটন এবং তেহরান শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়। এহেন পরিস্থিতিতে সূত্রের খবর, সৌদি আরবকে বড়সড় সামরিক সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan)। অন্তত ৮ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে সৌদিতে। যুদ্ধবিমান এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের তরফ থেকে।
সুপ্রিম সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, বাহরিন, আজারবাইজানের মতো একাধিক দেশ লক্ষ্য করে হামলা চলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে শোনা গিয়েছিল, ইরানের উপর ক্ষুব্ধ মুসলিম বিশ্ব। পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে তারা 'ইসলামিক ন্যাটো' প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। ইরানকে পালটা মার দেওয়াটাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হবে, এমনটাই শোনা গিয়েছিল।
কিন্তু তারপর পরিস্থিতি পালটেছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতা করছে ইসলামাবাদ। কিন্তু প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে। দিনকয়েক আগে প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের যুদ্ধবিমানগুলিকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে পাক ঘাঁটিতে। এবার নতুন রিপোর্টে বলা হল, আমেরিকার 'বন্ধু' সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। প্রাথমিকভাবে একদফা সাহায্য দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে প্রয়োজন পড়লে আরও সামরিক সাহায্য পাঠাবে ইসলামাবাদ। ৮০ হাজার সেনা পাঠাতেও প্রস্তুত পাকিস্তান, এমনটাই সূত্রের খবর। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে পাক সেনা বা সৌদি আরবের সরকার কেউই মুখ খোলেনি।
যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হয়েও কেন ইরানের প্রতিপক্ষকে অস্ত্র যোগাচ্ছে পাকিস্তান? আসলে গতবছর প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে দুই দেশ। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপর কোনও দেশ হামলা করলে সেটা সৌদির উপর আক্রমণ বলে বিবেচিত হবে। একইভাবে সৌদির উপর আক্রমণ হলেও সেটা পাকিস্তানের উপর হামলা হিসাবে গণ্য হবে এবং দুই দেশ একত্রিতভাবে আক্রমণ প্রতিহত করবে। যেহেতু ইরানের হামলা সৌদি আরবের একাধিক জায়গায় আছড়ে পড়েছে, তাই চুক্তিমাফিক পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হয়ে এভাবে সহায়তা করা যায় কি? উঠছে প্রশ্ন।
