shono
Advertisement
Taliban

ইউক্রেনের সেনাকে ধ্বংস করবে তালিবানের 'মানববোমা'! রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি আফগানিস্তানের

এককালে আফগানিস্তানে আধিপত্য ছিল রাশিয়ার। তবে মার্কিন সহায়তা ও মুজাহিদদের মানববোমায় আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয় রুশ সেনা। এরপর থেকে দীর্ঘ বছর তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল রাশিয়া।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 09:00 PM May 29, 2026Updated: 09:06 PM May 29, 2026

ইতিহাস বলে আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যারা ব্রিটেন, রাশিয়া ও আমেরিকার মতো বিশ্বের তিন মহাশক্তিকে পর্যুদস্ত করেছিল নিজেদের মাটিতে। অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার না থাকলেও, অতর্কিত হামলা ও মুজাহিদ যোদ্ধাদের আত্মবলিদানের সামনে নাকাল হয়েছে মহাশক্তির আস্ফালন। শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বদ্ধভূমি আফগানিস্তানের শাসক তালিবানের সঙ্গেই এবার সামরিক চুক্তি রাশিয়ার। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের মাঝেই তালিবানের সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক চুক্তি ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে।

Advertisement

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে এর আগে দফায় দফায় ভাড়াটে সৈন্য ব্যবহার করেছে রাশিয়া। চাকরির নামে বিদেশি যুবকদের যুদ্ধে ব্যবহারের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া থেকে সেনা এনে যুদ্ধ লড়েছে পুতিনের দেশ। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই গত বুধবার অর্থাৎ ২৭ মে মস্কোতে তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি সের্গেই শোইও-র মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। তবে উত্তর কোরিয়ার মতো তালিবার সরাসরি রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। শোনা যাচ্ছে, রাশিয়ার হয়ে সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও 'মানব বোমা'র অতীত পেরিয়ে আধুনিক সমরাঙ্গনে নিজেদের যোগ্য করে তুলতেই এই চুক্তি তালিবানের।

এই চুক্তি মাধ্যমে রাশিয়া তালিবান সেনাকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ড্রোন সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধের জন্য তালিবান সেনাকে উন্নত পর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে রাশিয়ার সেনা বিশেষজ্ঞরা।

এই সামরিক চুক্তির শর্তে যে যে বিষয়গুলি সামনে আসছে তা হল, এই চুক্তি মাধ্যমে রাশিয়া তালিবান সেনাকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ড্রোন সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধের জন্য তালিবান সেনাকে উন্নত পর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে রাশিয়ার সেনা বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য হল, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়াতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী বিশেষ করে আইএসআইএস-এর যৌথভাবে মোকাবিলা করা। তবে এই সামরিক চুক্তির আড়ালে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে তালিবান সেনাকে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

উল্লেখ্য, এককালে আফগানিস্তানে আধিপত্য ছিল রাশিয়ার। তবে মার্কিন সহায়তা ও মুজাহিদদের মানববোমায় আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয় রুশ সেনা। এরপর থেকে দীর্ঘ বছর তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল রাশিয়া। তবে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার বিদায়ের পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসেই তালিবান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। জুলাই মাসে সেখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও নিয়োগ করা হয়। এরই মাঝে এই সামরিক চুক্তি প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের দাবি, মস্কো এই বিপুল সহায়তা তালিবানকে বিনামূল্যে দেবে না। সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে না বললেও ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার বিনিময়েই হয়ত এই সামরিক চুক্তির পথ খুলেছে তালিবানের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement