ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে সুন্দরীকে সম্মান জানানোর মঞ্চ। কিন্তু সেই মিস ইউনিভার্স বয়কট করলেন মিস ফ্রান্স হিনাউপোকো দেভেজে। সাফ জানিয়ে দিলেন, অতীতের গরিমা এবং নৈতিকতা-সমস্তই বিসর্জন দিয়েছে মিস ইউনিভার্সের মঞ্চ। তাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জেতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। উল্লেখ্য, গতবছর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় জেতেন মেক্সিকোর ফতিমা বশ। বিতর্ক শুরু হয়, তিনি যোগ্যতাবলে জয়ী হননি। তারপরেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত মিস ফ্রান্সের।
প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে মিস ফ্রান্স। তাদের মতে, 'একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে মিস ফ্রান্স। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে, বিশেষত গত বছর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা এই মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়েছে। লাগাতার বিতর্ক, ভুলভ্রান্তি উঠে এসেছে। আয়োজকদের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি অভিযোগও। এতসব কাণ্ডের জেরে মিস ইউনিভার্স মঞ্চের সম্মান একেবারে ধুলোয় মিশেছে। এরকম প্রতিযোগিতায় জেতার থেকে নিজের সম্মান বজায় রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।'
১৯৫২ সাল থেকে মিস ইউনিভার্সে অংশ নিয়েছে ফ্রান্স। দু'বার এই প্রতিযোগিতায় মিস ফ্রান্স জয়ী হয়েছেন। গতবছর সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন মিস ফ্রান্স। এই প্রথমবার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে তারা। নেটদুনিয়াতেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে মিস ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত। অনেকেই বলছেন, অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিরাও এই মঞ্চ বয়কট করতে পারেন। যদিও বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে কিছু বলা হয়নি মিস ইউনিভার্সের তরফ থেকে।
উল্লেখ্য, গতবছর প্রতিযোগিতার আগেই মিস ইউনিভার্সের শীর্ষ কর্তা সকলের সামনে 'বোকা' বলে কটাক্ষ করেছিলেন ফতিমাকে। তাঁর অপরাধ, নির্দেশ মেনে তিনি রিল বানাননি। গোটা ঘটনায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ঘটনাচক্রে সেই ফতিমাই ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী হন। তারপর প্রশ্ন ওঠে, বাবার প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে এই খেতাব 'কিনেছেন' তিনি। সবমিলিয়ে নানা বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছে মিস ইউনিভার্স। এবার ফ্রান্সের বয়কটে শুরু হল নতুন বিতর্ক।
