সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইজরায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কমান্ডার আলি শাদমানির। বুধবার খবরটি নিশ্চিত করেছে তেহরান। সেদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এটি প্রচার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শাদমানির মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যে ফের একবার বাজবে যুদ্ধের দামামা?
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের তরফে জানানো হয়েছে, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাদমানি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইজরায়েলি সেনা একটি অপরাধমূলক কাজ করেছে। আমরা এর ভয়ংকর প্রতিশোধ নেব।’
১৩ জুন ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল। সেই সময় থেকেই প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। একদিন পর সেই আশঙ্কা সত্যি করে ইজরায়েলে পালটা হামলা চালায় ইরান। ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। মৃত্যু হয় ইরান সেনার চিফ অফ স্টাফ মহম্মদ বাঘেরি, রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেন সালামি, ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের কমান্ডার এবং দুই শীর্ষ সেনা আধিকারিকের। প্রাণ হারান ইরানের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিরও। এছাড়াও পারমাণবিক গবেষণাকারী অন্তত ৯ জন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়ছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রত্যাঘাতে বারবার কেঁপে ওঠে তেল আভিভ-সহ গোটা ইজরায়েল।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয় ২২ জুন। ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা। ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন বায়ুসেনা। জবাবে মিসাইল ছুড়ে ইজরায়েলকে ঝাঁজরা করে দেয় তেহরান। আমেরিকাকে শিক্ষা দিতে সিরিয়া-কাতার-ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যেই সোমবার ভোর রাতে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
