ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর (Ayatollah Ali Khamenei Death) প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্বের একাধিক দেশ। পাকিস্তান, ইরাক এমনকী ভারতেও কাতারে কাতারে মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মারমুখী জনতা জনতা হামলা চালিয়েছে করাচির মার্কিন কনসুলেটে (Karachi US Consulate Attack)। প্রবল সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই দশজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর আহত আরও ৩০ জন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কনসুলেটে ব্যাপক গুলি চলেছে। তার জেরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট জন।
রবিবার ভোরে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ হয়েছেন। শনিবার তিনি তাঁর দপ্তরে কাজ করছিলেন। সেই সময়েই আমেরিকা-ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর অনুযায়ী, তেহরানে খামেনেইর অফিস কার্যত ধুলিসাৎ। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করের সংবাদ শাখার দাবি, খামেনেই আত্মগোপন করেননি। তিনি নিজের কাজ করছিলেন। পালানোর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মানসিক যুদ্ধ চালানোর চেষ্টা হচ্ছিল।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই নানা দেশের মার্কিন দূতাবাস, হাই কমিশন, কনসুলেটের সামনে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। পাকিস্তান এবং ইরাকে কার্যত তাণ্ডব চলে মার্কিন দূতাবাসের সামনে। করাচির মার্কিন দূতাবাসের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রবিবার দুপুরে। জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে জড়ো হন। সেখান থেকে কনসুলেটের দিকে এগোতে থাকেন। প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
কিন্তু বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি উত্তাল জনতাকে। ব্যারিকেড ভেঙে প্রতিবাদীরা এগিয়ে যায় কনসুলেটের দিকে। তাদের আটকাতেই নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালায়। সেখান থেকেই শুরু হয় মৃত্যুমিছিল। প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। ক্রমে সেই সংখ্যাটা বেড়ে ১০-এ পৌঁছেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। যদিও পাকিস্তান বা আমেরিকা-কারওর তরফেই এই হামলা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলা হয়নি। সূত্রের খবর, জমায়েত আটকাতে এবং হিংসা রুখতে একাধিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পাক পুলিশ।
