আমেরিকার তরফে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হলেও বারুদের গন্ধ কাটেনি গোটা পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধবিরতির মার্কিন শর্ত পত্রপাঠ খারিজ করেছে ইরান। এই অবস্থায় এবার আমেরিকাকে (US) চরম সময়সীমা বেঁধে দিল ইরানের (Iran) ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। রবিবার আইআরজিসি-র তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, এবার তাদের টার্গেট মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের দাবি না মানলে এইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বোমাবর্ষণ করা হবে।
আইআরজিসির তরফে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যুদ্ধের মাঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এহেন হামলার ব্যাপক নিন্দা করেছে ইরান। এরপরই সামনে এসেছে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি। যেখানে বলা হয়েছে, যদি আমেরিকা চায় মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিরাপদ থাকুক, তবে ৩০ মার্চ দুপুর ১২টার মধ্যে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা করতে হবে সরকারিভাবে। যদি আমেরিকা তা না করে সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করবে ইরান। হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে।
যদি আমেরিকা চায় মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিরাপদ থাকুক, তবে ৩০ মার্চ দুপুর ১২টার মধ্যে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা করতে হবে সরকারিভাবে।
ইরানের এহেন হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ পশ্চিম এশিয়াতে আমেরিকার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। যেখানে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও কর্মীরা কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে সেখানে হামলা হলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়াতে এখন জরুরি অবস্থা চলছে বন্ধ রাখা রয়েছে সমস্ত ক্যাম্পাস। ভারতের সিবিএসই-ও সেখানে যাবতীয় পরীক্ষা বাতিল করেছে।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত আবহেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সেখানে পা রেখেছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা। শুধু তা-ই নয়, ইরানের উপর জোরাল আঘাত হানতে ‘জলদানব’ ইউএসএস ত্রিপোলিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে আমেরিকা। সেটিতে রয়েছে প্রায় ২৫০০ মেরিন সেনা (নৌসেনা)। মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরীটি ইতিমধ্যেই নাকি নিজের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ইরানে এবার ‘গ্রাউন্ড ইনভেশন’ শুরু করবে আমেরিকা।
