যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের একটি স্কুলে আছড়ে পড়েছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। যাতে মৃতের সংখ্যা ছাড়ায় ১৫০। অধিকাংশই নাবালিকা ছাত্রী। শুরুতে এই হামলার দায় নিতে চায়নি আমেরিকা। যদিও প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্কুল চালাকালীন মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রেই প্রাণ গিয়েছে নিরীহদের। এবার সেই হামলার নেপথ্যে থাকা দুই মার্কিন নৌসেনা আধিকারিকের ছবি প্রকাশ করল তেহরান। পাশাপাশি, তাঁদের ‘খুনি’ তকমাও দিয়েছে ইরান।
রবিবার ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার ইরানি দূতাবাসের তরফে ওই দুই মার্কিন কর্তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম লেই আর টেট এবং অপর জনের নাম জেফরি ই ইয়র্ক। লেই মার্কিন রণতরী ইউএসএস স্প্রুয়ান্সের কমান্ডিং অফিসার এবং জেফরি নির্বাহী আধিকারিক। ইরানের দাবি, তাঁদের নির্দেশেই সেদিন মিনাবের ওই স্কুলে অত্যাধুনিক টামাহক মিসাইল নিয়ে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি বিতর্ক সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেখানে তিনি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত এবং পর্যায়ক্রমিক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, দাবি করেছিলেন, হামলায় ছাত্র এবং শিক্ষক মিলিয়ে মোট কমপক্ষে ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিন মিনাবের শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে (Minab School Strike) আছড়ে পড়ে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল। চোখের নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বালিকা বিদ্যালয়টি। মৃত্যু হয় ১৫০ জনের। অধিকাংশই ছাত্রী। প্রাথমিক ভাবে ইজরায়েল বা আমেরিকা, কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা, যা ইজরায়েলের কাছে নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী আমেরিকাই। এ-ও বলা হয়েছ, স্কুল লাগোয়া একটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাতে গিয়ে ভুল করে স্কুলে হামলা চালায় আমেরিকা।
