বৃহস্পতিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ''আমরা যেখানে খুশি (ইরানের) উড়ে বেড়াচ্ছি। আমাদের কেউ আক্রমণও করছে না!'' কিন্তু কে জানত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাঝ আকাশে মার্কিন অহং গুঁড়িয়ে দেবে ইরান! জানা গিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংস (US F-35 Shot Down) করে দিয়েছে ইরানের এয়ার ডিফেন্স! ওই বিমান এর আগে কোনও যুদ্ধেই পরাস্ত হয়নি। সেখানে এবার ইরান একটি নয়, দু'টি এফ-৩৫ গুঁড়িয়ে দিয়েছে! যা ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাতের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ট্রাম্প বারবারই দাবি করেছেন ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন সেনা। কিন্তু এবার সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই 'অবধ্য' এফ-৩৫-কে চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি তেহরানের। যদিও আমেরিকার দাবি, বিমানটি ধ্বংস হয়নি। বরং আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। এদিকে আরও একটি এফ-৩৫ জেট ইরানের বন্দর আব্বাসেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, 'মার' খেতে খেতে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া ইরানের পক্ষে এমন পালটা জবাব দেওয়া সম্ভব হল কী করে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংস করে দিয়েছে ইরানের এয়ার ডিফেন্স! ওই বিমান এর আগে কোনও যুদ্ধেই পরাস্ত হয়নি। সেখানে এবার ইরান একটি নয়, দু'টি এফ-৩৫ গুঁড়িয়ে দিয়েছে!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এহেন প্রত্যাঘাতে আমেরিকা নিশ্চিত ভাবেই ধাক্কা খেয়েছে। বলে রাখা ভালো, অন্তত ১৫টি দেশ আমেরিকার থেকে এফ-৩৫ কিনেছে। ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও এই বিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও ভারত কখনওই ওই বিমান কেনার আগ্রহ দেখায়নি।
কেবল এফ-৩৫ নয়, এখনও পর্যন্ত ইরান অন্তত ১৬টি মার্কিন ফাইটার জেট গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি। পাশাপাশি ১০টি রিপার ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে তেহরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে যায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৯ দিন ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য।
