ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। এবার মার্কিন (US)-ইজরায়েলি যৌথ হানায় মৃত্যু হল ইরান (Iran) সেনার সেই মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনির। শুক্রবার ইরানের জাতীয় মিডিয়ার তরফে নাইনির মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নাইনি বলেছিলেন, সাহস থাকলে রণতরী পাঠান ট্রাম্প। সেই হুঁশিয়ারির পরেই মৃত্যু হল তাঁর।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ (War) চলাকালীন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের রণতরী ডুবিয়ে মারতে খুব মজা পাচ্ছেন তিনি। তাঁর মতে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌসেনা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পালটা সুর চড়িয়েছিলেন ইরান রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র নাইনি। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ট্রাম্প তো বলেছিলেন ইরানের নৌসেনা নাকি একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সেটাই যদি হয়ে থাকে তাহলে আমি বলব যদি ট্রাম্পের সাহস থাকে তাহলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান।" এই হুঁশিয়ারির কয়েকদিনের মধ্যেই আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় নাইনির মৃত্যু হল।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের বিদেশ সচিবকে ফোন করে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আমির আরাঘচি। উল্লেখ্য, ইরানকে রুখতে নানা দেশের থেকে 'সাহায্য' চেয়েছিলেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরানি নৌসেনা। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প বলেন, হরমুজে রণতরী পাঠাক ন্যাটোর সদস্য এবং অন্যান্য দেশগুলি। চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-এই দেশগুলির নামও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও কোনও দেশ সাহায্য পাঠায়নি।
কিন্তু এবার ব্রিটেনকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিল ইরান। শুক্রবার নাইনির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই ব্রিটেনের সচিব ইয়েত কুপারকে ফোন করেন আরাঘচি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্রিটেন যদি আমেরিকাকে সামরিক সাহায্য করে তাহলে ফল ভালো হবে না। সেক্ষেত্রে ব্রিটেনকেও আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে একসারিতে বসিয়ে আক্রমণ শানাতে পারে ইরান, সেই সম্ভাবনা রয়েছে। নাইনির মৃত্যুর পরেই ইজরায়েলের নানা জায়গায় হামলা হতে পারে বলেও খবর মিলেছে।
