shono
Advertisement
Iran

মার্কিন মিসাইলে মৃত্যু হয় ১২০ খুদের ! ইরানের সেই স্কুলের শিক্ষিকার প্রশ্ন, 'ওদের অপরাধ কী ছিল?'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মিনাবের স্কুলে হামলা হয়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 07:12 PM Jul 23, 2026Updated: 07:13 PM Jul 23, 2026

দিনটা শুরু হয়েছিল স্বাভাবিক ভাবেই। তখন চলছে রমজানের মাস। সমস্ত বাচ্চারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রার্থনার লাইনে। আচমকাই খবর আসে ইরানে প্রথম মার্কিন হামলা হয়ে গিয়েছে। এরপরই প্রধান শিক্ষিকা ঘোষণা করেছিলেন দ্রুত স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে। খবর দেওয়া হচ্ছিল অভিভাবকদের, যাতে তাঁরা এসে ছাত্রীদের নিয়ে যান। সেইমতো ছুটি দেওয়া শুরুও হয়ে যায়। কিন্তু... আচমকাই গুঁড়িয়ে যায় স্কুলটা। মৃত্যু ১২০ শিশুকন্যা-সহ ১৫৬ জনের! আজ, এতদিন পরেও বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় স্কুলের শিক্ষিকা আমাইনে নাদেমির দু'চোখে সেই মর্মান্তিক মৃত্যুস্রোতের বীভৎস বিষাদ। বলছেন, ''ওদের দোষ কী ছিল?''

Advertisement

৩৩ বছরের নাদেমি বলছেন, ''এটা আর স্কুল নেই... দেওয়ালে দেওয়ালে মৃত্যু, শোক আর রক্তের ছাপ!'' তাঁর মনে পড়ছে তিনি যে ক্লাসে ছিলেন, সেখানে আর পাঁচজন ছাত্রী ছিল। আচমকাই একটা বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসে। সবে সকলকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছেন, এমন সময় আবারও বিস্ফোরণ। স্কুলেই এসে পড়ল মিসাইল। নাদেমি বলছেন, ''আমি যে বাচ্চাটির হাত ধরেছিলাম, তাকেও খুঁজে পাইনি। খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।'' জানাচ্ছেন, তাঁর সারা শরীর দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছিল।

আচমকাই গুঁড়িয়ে যায় স্কুলটা। মৃত্যু ১২০ শিশুকন্যা-সহ ১৫৬ জনের! আজ, এতদিন পরেও বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় স্কুলের শিক্ষিকা আমাইনে নাদেমির দু'চোখে সেই মর্মান্তিক মৃত্যুস্রোতের বীভৎস বিষাদ। বলছেন, ''ওদের দোষ কী ছিল?''

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের ছোট্ট শহর মিনাবের ওই স্কুলে হামলা হয়। প্রাথমিকভাবে যার দায় স্বীকার করেনি আমেরিকা। উলটে ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমাদের মনে হয়, এটা ইরানের কাজ। ওদের দেশের স্কুলে হামলা চালিয়েছে ওরাই। অন্যত্র নিশানা করতে গিয়ে নিজেদের দেশের স্কুলেই হামলা চালিয়ে ফেলেছে।” যদিও কিছু দিনের মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে চলে আসে। সেখানে বলা হয়— দক্ষিণ ইরানের মিনাবে চালানো প্রাণঘাতী হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন সেনাই দায়ী ছিল।

এই নিয়ে জলঘোলা এখনও চলছে। কিন্তু সেসবে আর মাথাব্যথা নেই নাদেমির। বরং তাঁর এখনও মনে পড়ছে, নিজের রক্তে মাখা শরীরের কথা। মনে পড়ছে চারপাশে ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে পড়া রক্তস্নাত শিশুগুলির কথা। ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানা নেই। কিন্তু তা শেষ হয়ে গেলেও থেকে এই প্রশ্নটা। ওই ছোট্ট শিশুগুলির কী দোষ ছিল? লোভ ও আগ্রাসনের লেলিহান শিখায় কেন পুড়ে গেল অতগুলো তাজা প্রাণ? অবশ্য এও নাদেমি জানেন, এর উত্তর কোনওদিনই মিলবে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement