সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বদলা নিল ইরান! রবিবার তাদের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায় আমেরিকা। সোমবার সিরিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা চালাল তেহরান। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। ওই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর মেলেনি এখন পর্যন্ত। উল্লেখ্য, সিরিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে ইরান, এই আশঙ্কাতেই তাদের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়েছিল ওয়াশিংটন, ইতিপূর্বে এমনটাই জানা গিয়েছিল। বাস্তবেই বদলা নিল তেহরান।
রবিবার ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণুকেন্দ্রে মার্কিন সামরিক হামলার পর সোমবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আমেরিকা এবং ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন হামলার নিন্দা করেছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে রুশ বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়, ‘ইরানের উপর মার্কিন হামলার কড়া নিন্দা করছি। দায়িত্বজ্ঞানহীন এই হামলা আসলে আন্তর্জাতিক আইনের ঘোরতর বিরোধী। মার্কিন হামলার পরে অশান্ত পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তার জেরে ওই এলাকা-সহ গোটা বিশ্বের সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে।”
প্রসঙ্গত, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে, বহুবার মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও আজ পর্যন্ত তা প্রমাণিত হয়নি। এরমধ্যেই ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ, মার্কিন হামলা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে। বিশেষজ্ঞের দাবি, দশকের পর দশক ধরে ইরানে মোল্লাতন্ত্র কায়েম রয়েছে। নেতৃত্বে খামেনেই। ক্রমশ জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার ইরান বিপজ্জনক হয়ে উঠছে ইজরায়েল, আমেরিকা-সহ পশ্চিম বিশ্বের একাধিক দেশের জন্যে। মরুদেশের শক্তিধর দেশটির উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে মধ্যপ্রাচ্যের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানো। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ঠিক সেই কারণেই খামেনেইকে নিকেশ করে ইরানের মোল্লাতন্ত্রের অবসান ঘটাতে চাইছে পেন্টাগন। গণতন্ত্র কিংবা নিদেন রাজতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়াই উদ্দেশ্য। যদিও রবিবার প্রকাশ্যে সেই দাবি মানল না ওয়াশিংটন।
