ইরান যুদ্ধের (War) ষষ্ঠ দিনেও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বারুদের গন্ধ, রক্ত, মৃত্যু, হাহাকার! এখনও পর্যন্ত আমেরিকা-ইজরায়েলের (Israel) হামলায় কেবল ইরানে (Iran) মৃত্যু হয়েছে ২২০৫ জনের। এই অবস্থায় পালটা কৌশ হিসাবে ইজরায়েলের পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিল তেহরান। অন্যদিকে সংঘাতের মধ্যেই পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম অন্তর্দেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল 'মিনিটম্যান-৩' পরীক্ষা করল আমেরিকা। উভয় পক্ষের এই পরমাণু হুমকির কৌশল তাৎপর্যপূর্ণ। এদিকে ভারত মহাসাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরান হুঁশিয়ারি দিল---'ফল ভুগতে হবে'।
নেগেভ মরুভূমিতে রয়েছে ইজরায়েলের অঘোষিত ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রটি। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ডিমোনার উপর যেকোনও ধরনের হামলার ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ালে ইজরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী জর্ডনেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বলা বাহুল্য, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তজনা তথা আতঙ্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
উল্লেখ্য, মার্কিন মহাকাশ বাহিনী গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ সেনা ঘাঁটতে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম অন্তর্দেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল মিনিটম্যান-৩ পরীক্ষা করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন সেনার সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, রুটিন পরীক্ষা হয়েছে অন্তর্দেশীয় মিসাইলের। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, হাজার মাইল দূরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত করেছে শাক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
এদিকে ভারত মহাসাগরে ইরানি রণতরীতে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌসেনা। জাহাজে থাকা অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৪৮জন এখনও নিখোঁজ। বুধবার শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএনএস ডেনা’-এর উপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে---ভারত মহাসাগরের ঘটনায় ফল ভুগতে হবে আমেরিকাকে।
