ইরানে খামেনেইয়ের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই আন্দোলন-বিক্ষোভ কড়া হাতেই দমন করছে তেহরান। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত আড়াই হাজার প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি। এর মাঝেই, সরকার বিরোধি বিক্ষোভ দমনে ফাঁসির সাজা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার।
গত সপ্তাহেই ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোবাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দেন, এবার কেউ বিক্ষোভে শামিল হলেই তাঁকে 'ঈশ্বরের শত্রু' তকমা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকী 'দাঙ্গাকারীদের' সাহায্য করলেও একই শাস্তি মিলবে বলে হুংকার দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ইরান সরকার প্রথম ফাঁসির সাজা কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২৬ বছর বয়সী ইরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে খবর। তেহরানের শহরতলির কারাজ এলাকার ফারদিসের বাসিন্দা সোলতানিকে ৮ জানুয়ারী ইরান গ্রেপ্তার করা হয়। একটি মানবাধিকার সংগঠনের খবর এবং মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বুধবার সোলতানির সাজা ঘোষণা করা হবে।
ইরান এর আগেই বহুবার সরকার বিরোধী মত দমনের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেইসব ক্ষেত্রে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে গুলি করে। কিন্তু সোলতানির ক্ষেত্রে ফাঁসিতে ঝুলিয়েই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে জানা গিয়েছে। দেশজুড়ে চলতে থাকা বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে এটাই প্রথম সাজা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের পরে আরও বহু এমন সাজা ঘোষণা হতে পারে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, সোলতানির গ্রেপ্তারির পর থেকে তাঁকে ন্যুনতম আইনি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। পাশপাশি, তাঁকে আইনজীবী নিয়োগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সোলাতানি কোথায় আছেন সেই বিষয়ে তাঁর পরিবারকেও কিছু জানানো হয়নি।
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানে দেশবাসীকে পালটা হুংকার তেহরানের ইসলামি শাসকদের। ক্ষমতাসীন শাসকের বিরুদ্ধে মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দামের পতন রোধে ব্যর্থতার অভিযোগের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চেয়ে দেশের একের পর এক শহরে আছড়ে পড়ছে আমজনতার অসন্তোষ। মোকাবিলায় চলছে প্রবল দমনপীড়ন। যার বলি হয়েছেন অনেক মানুষ। উত্তপ্ত ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১৬।
