সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের মাটিতে বড়সড় কিছুর পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। সম্প্রতি এমনই বার্তা দিয়েছে ইজরায়েল। এরপরই আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিল ইরান। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হল, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তারাও চুপ করে বসে থাকবে না। এইসব অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাবে তারা। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বেজে উঠল রণ দুন্দুভি।
ইরানে মার্কিন হামলার ইঙ্গিত মিলতেই এই ইস্যুতে মুখ খোলেন ইরানের সংসদ অধ্যক্ষ কালিবাফ। সংসদে বক্তব্য রাখার সময় আমেরিকা তো বটেই, বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, 'ইরানের জনগণের জেনে রাখা উচিত আমরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে যথাসম্ভব কঠোরতম আচরণ করব, যাদের গ্রেপ্তার করা হবে তাঁদের ভয়ংকর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।' ইজরায়েল ও আমেরিকাকে তোপ দেগে বলেন, ''ইরানের উপর কোনও রকম হামলা হলে আমরা দখল করে রাখা ওই অঞ্চল (ইজরায়েল), এবং এখানকার সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা এবং জাহাজকে নিশানা করব। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, আমরা শুধুমাত্র আক্রমণের পর প্রতিক্রিয়া জানাব না, বিপদের কোনওরকম লক্ষণ দেখলেই ব্যবস্থা নেব।"
আয়াতোল্লা খামেনেই-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে জ্বলছে গোটা ইরান (Iran Protests)। এখনও পর্যন্ত ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এই বিক্ষোভে। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৬০০ জনকে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিক্ষোভে প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে আমেরিকার। শুধু তাই নয়, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের খুন করা বন্ধ না করলে তেহরানে জোরদার আঘাত করবে আমেরিকা।” ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা শীঘ্রই বড়সড় কিছু ঘটতে চলেছে তেহরানে। ভেনেজুয়েলার পর এবার ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে পাশ্চাত্যবিরোধী ও মোল্লাতন্ত্রের ধারক খামেনেই-এর পতন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রুখতে হিংসার আশ্রয় নেয় সেক্ষেত্রে তাঁদের বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে আমেরিকা।”
অন্যদিকে, বিক্ষোভে রাশ টানতে আরও কঠোর হচ্ছে ইরান প্রশাসন। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
