shono
Advertisement
Israel Iran War

নিষিদ্ধ 'ক্লাস্টার বম্ব' মিসাইল ছুড়ছে ইরান! আতঙ্ক ইজরায়েলে, নেপথ্যে রাশিয়া-চিনের হাত?

ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে ‘ক্লাস্টার বম্ব’ ব্যবহার করছে ইরান। তেল আভিভ লক্ষ্য করে এই মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। এমনটাই দাবি করল ইজরায়েলি সেনা।
Published By: Saurav NandiPosted: 07:06 PM Mar 04, 2026Updated: 07:40 PM Mar 04, 2026

ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বম্ব’ ব্যবহার করছে ইরান (Israel Iran War)। তেল আভিভ লক্ষ্য করে এই মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। এমনটাই দাবি করল ইজরায়েলি সেনা। কিন্তু প্রশ্ন, ইরান এই অস্ত্র পেল কোথা থেকে? সেই সূত্রেই জল্পনা, রাশিয়া এবং চিনই কি ইরানকে এই অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে? যদি তা-ই হয়, সেক্ষেত্রে আগামী দিনে এই ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের গতিপ্রকৃতিই বদলে যাবে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিতর্কিত ক্লাস্টার বম্ব যে ইরানের হাতে নতুন এসেছে, তেমনটা নয়। গত বছর যে সংঘাত বেধেছিল, সেই সময়েও ইজরায়েলের দিকে 'ক্লাস্টার বম্ব' ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে।

Advertisement

ইংরেজিতে ‘ক্লাস্টার’ শব্দের অর্থ ‘একগুচ্ছ’। ক্লাস্টার বোমার মধ্যে আসলে থাকে একগুচ্ছ ছোট ছোট বোমা। ছোট, কিন্তু শক্তিশালী। একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মোড়কে ওই ছোট বোমাগুলি ভরা থাকে। উৎক্ষেপণের পর শূন্যেই খুলে যায় ক্লাস্টার বোমার অস্ত্র-মুখ। ভিতর থেকে ছোট ছোট বোমাগুলি বেরিয়ে আসে এবং বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়ে, ইরান সদ্য যে ক্লাস্টার বম্ব মিসাইল ছুড়েছে, সেটির মুখ মাটি থেকে সাত কিলোমিটার উচ্চতায় খুলে গিয়েছিল। তা থেকেই বেরিয়ে এসেছে অন্তত ২০টি বোমা। গিয়ে পড়েছে তেল আভিভ এবং তার আশপাশের এলাকায়।

ক্লাস্টার বোমার আরও একটি বিশেষত্ব হল, এর মধ্যে থাকা ছোট বোমাগুলির কোনও কোনওটি মাটিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ফাটে না। কোনও কিছুর সংস্পর্শে এলে তবেই ঘটে বিস্ফোরণ। অর্থাৎ, জনবহুল এলাকা না হলে এবং কিছুর সংস্পর্শে না এলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই বোমা সক্রিয় থেকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশেষত্বই ক্লাস্টার বোমাকে কখনও কখনও ব্যালিস্টিক মিসাইলের চেয়েও ভয়ানক করে তোলে। মাটিতে আছড়ে পড়ার পরেও না ফাটলে সেই বোমা সম্পর্কে অনেকে অবহিত না-ও থাকতে পারেন। রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময়ে অজান্তেই কেউ তার সংস্পর্শে চলে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মত, ক্লাস্টার বোমার মধ্যে যে ছোট ছোট বোমাগুলি থাকে, একক বোমা হিসাবে তা খুব একটা ভয়ানক নয়। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলি বোমা পড়লে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইরানের অন্যান্য ব্যালিস্টিক মিসাইলের চেয়েও এগুলি ভয়ানক, বিশেষত জনবহুল এলাকায়। ২০০৮ সালে ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশন’ নামে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিল। তাতে ক্লাস্টার বোমার সংরক্ষণ, পরিবহণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১১১টি দেশ এবং ১২টি সংগঠন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু আমেরিকা, ইজরায়েল, ইরানের মতো প্রধান সামরিক শক্তিগুলি এই চুক্তিতে সম্মত হয়নি। ২০২৩ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমার জোগান দিয়েছিল আমেরিকা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement