ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রবিবার কাস্পিয়ান সাগরে এক প্রাণঘাতী হামলার জবাবে কিয়েভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইজরায়েলের নির্দেশে চালানো হয়েছিল হামলাটি।
২০২২ সালে থেকে যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউক্রেন। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, জাহাজগুলি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাশিয়ায় ইরানি অস্ত্র পরিবহণ করছিল। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় জাহাজটির এক নাবিক মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। তাদের সাফ কথা, ইসলামিক দেশটি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হওয়া সংঘাতে কখনওই হস্তক্ষেপ করেনি। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ইরানে যুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলবও করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানাচ্ছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশমন্ত্রী কাজা কালাস ও রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁৎ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, কিয়েভ যা করেছে, সেজন্য সহজেই তারা পার পাবে না। স্বাভাবিক ভাবেই এমন মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও ঘনিয়েছে।
এদিকে রাশিয়াও এই ইস্যুতে মুখ খুলেছে। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লাভরভ ইরানের প্রতি শোক প্রকাশ করে জানান যে, ফোনালাপের সময় আরাঘাচি রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ওই অঞ্চল থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল।
বলে রাখা ভালো, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। এই সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসে পাকিস্তান। শেষপর্যন্ত ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালে দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছয় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তবে শেষপর্যন্ত শান্তি বজায় থাকেনি। এই মুহূর্তে ফের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যত সময় যাচ্ছে ততই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এবার এই সংঘাতে ইউক্রেনের নামও জড়িয়ে গেল।
