ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যৌন নির্যাতনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রুশ সেনা। সম্প্রতি সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের সেনা ও নাগরিকদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষন ও যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে রুশ সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রসংঘেও এই বিষয়ে দায়ের হয়েছে অভিযোগ।
রাষ্ট্রসংঘের তদন্তকারী, ইউক্রেনের আইনজীবী এবং রাশিয়ার হাতে বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া কিছু যুদ্ধবন্দিদের বয়ানের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করছে রাশিয়া। সেরহি ওয়াচুক নামে ইউক্রেনের এক জওয়ান প্রায় ২ বছর বন্দি ছিলেন রাশিয়ার হাতে। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, বন্দি থাকাকালীন বোতল ও লাঠি তাঁর গোপনাঙ্গে প্রবেশ করান হয়। ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। সেরহি বলেন, 'ওদের উদ্দেশ্য শুধু আমাকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া নয়, মানসিকভাবে আমাকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া।'
নির্যাতিতর বয়ান অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় বোতল ও লাঠি তাঁর গোপনাঙ্গে প্রবেশ করান হয়। ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হত।
যুদ্ধ চলাকালীন রাষ্ট্রসংঘে রুশ সেনার বিরুদ্ধে এহেন যৌন নির্যাতনের ৩১০টি অভিযোগ দায়ের হয়। চাঞ্চল্যকর ঘটনা হল, ৩১০টি অভিযোগের মধ্যে ২৮০টি ঘটনা পুরুষদের উপর যৌন নির্যাতনের, এছাড়া ২৬ জন মহিলা ও ৪ জন নাবালিকা। তদন্তে জানা গিয়েছে রাশিয়ার জেলগুলিতে এই বন্দিদের বৈদ্যুতিক শক, যৌনাঙ্গ বিকৃত করা এবং গণধর্ষণ ছিল সাধারণ ঘটনা। নির্যাতিতদের বয়ান অনুযায়ী, তাঁদের যৌনাঙ্গে পুরনো সামরিক ফিল্ড টেলিফোনের তার বেঁধে দেওয়া হত। এরপর সেটিকে ঘুরিয়ে তাতে বিদ্যুতের শক দেওয়া হত। ভয়ংকর এই নির্যাতন চালানোর সময় কারারক্ষীরা হাসতে হাসতে বলত 'কল টু পুতিন'।
রুশ সেনার এই নারকীয় অত্যাচারের শিকার শুধু ইউক্রেনের সেনা নয়, সাধারণ নাগরিকরাও। খোরসানের ৪২ বছরের এক যুবক নিজের বাড়িতে ইউক্রেনের পতাকা তোলার অপরাধে রুশ সেনার হাতে বন্দি হন। কারাগারে তাঁকেও একইভাবে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। শুধু তাই নয়, ৬৩ বছরের হালিনা তিশচেকনো কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কীভাবে নিজের বাড়ির বসার ঘরেই ঢুকে বন্দুকের নলের মুখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর হাড় কাঁপানো ঠান্ডায়, তাঁকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয়।
