শনিবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসতে চলেছে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক (Iran-US Peace Talks)। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই বৈঠকের উপরে। তার আগে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করল ইজরায়েল। শুক্রবার ভারতের ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করলেন, আমরা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করি না। ইসলামাবাদকে নিয়ে তাদের শংসয়ের বিষয়টি আমেরিকাকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের।
ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার বলেন, "আমরা পাকিস্তানিদের বিশ্বাস করি না। আর এটাও ভাববেন না যে আমেরিকানরা ওদের বিশ্বাস করে। এটা সাধারণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা, এর বেশি কিছু নয়।" আমেরিকা ও ইরানের মধ্যের আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকা প্রসঙ্গে আজার বলেন, "আমেরিকার প্রতি আশাবাদী ইজরায়েল। তেল আভিভ বিশ্বাস করে আমেরিকানরা এই দুই সপ্তাহকে এমনভাবে কাজে লাগাবে, যাতে এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।" উল্লেখ্য, লেবাননে ইজরায়েলি হামলার নিন্দা করেছে পাকিস্তান। এই বিষয়ে আজারের মন্তব্য, দেশের প্রতিরক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন, তেল আভিভ তাই করবে।
এদিকে ইরান-আমেরিকা বৈঠকের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ইসলামাবাদকে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ এবং জওয়ান। শুধু তা-ই নয়, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ এবং বাজার। জানা গিয়েছে, ‘রেড জোন’ এলাকাগুলিতে অর্থাৎ যেখানে রয়েছে সংসদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়, বিলাসবহুল হোটেল এবং দূতাবাস সেখানে বেসরকারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দু’দেশের প্রতিনিধিরা যাতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। গোটা শহরের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণাও করা হয়েছে।
‘গালফ নিউজে’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছে গিয়েছে ৩০ সদস্যের একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল। তবে পাকিস্তানে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন খোদ মার্কিন নাগরিকদের একাংশ। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব আরি ফ্লেইশার বলেন, “পাকিস্তান বিপজ্জনক। কারণ, দেশটির সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই।” একাধিক প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা-ইরানের বৈঠকের আগে নিজেদের আকাশ সীমাও সুরক্ষিত করছে ইসলামাবাদ। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের আকাশে টহল দিতে দেখা গিয়েছে আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং পাক যুদ্ধবিমান সি-১৩০।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ইরানের আকাশেও দেখা গিয়েছে পাক যুদ্ধবিমান। সূত্রের খবর, ইরানের প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতেই যুদ্ধবিমানগুলি সেখানে পাঠানো হয়েছে। ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের প্রতিনিধিদলের উপর যাতে কোনও রকম হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করবে পাকিস্তান। তাঁদের ঢাল হয়ে দাঁড়াবে পাক যুদ্ধবিমানগুলি।
