আমেরিকা ইরান শান্তিচুক্তির দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার সতর্ক করছেন, ইজরায়েল যেন আপাতত লেবাননে হামলা না চালায়। তথাপি বেপরোয়া বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। অভিযোগ, ফের লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে প্রদেশে ওই হামলায় অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অনেকে।
মঙ্গলবার নাবাতিয়ে প্রদেশের মায়ফাজুনে দু'টি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় ইজরায়েল। শাউকিন নামের একটি গ্রামে আরও একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে মোট চার জনের। যদিও মঙ্গলবার জি৭ সম্মেলনে ফের ইজারায়েলকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ভাষণে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নেতনিয়াহুকে লেবাননে হামলা বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। কারণ এই হামলা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে প্রভাব ফেলছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথা বলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, “বিবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার ছিল, কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে বিবিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।” আরও বলেন, “লেবানন একসময় একটি চমৎকার দেশ ছিল। সেখানে অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মতো গুণী মানুষেরা ছিলেন; লেবানন ছিল মেধাবীদের আবাসস্থল। আর এখন সেখানকার অবস্থা শোচনীয়।”
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক ঘণ্টা খানেক আগে বেইরুট হামলা চালায় ইজরায়েল। বিষয়টিকে একেবারেই ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “খুব বাজে ব্যাপার হয়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। চুক্তি সই করার ঠিক এক ঘণ্টা আগে এমনটা হল।” এর আগে সংবাদসংস্থা অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, “বিবি কেন ওই জঘন্য হামলাটা চালাতে গেলেন? আমি ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়েছিলাম। আমি তাঁকে সেটা জানিয়েও দিয়েছি। ওঁর বিচারবুদ্ধি বলে কিছু নেই। আমি তাঁকে সেটাও বলেছি।”
জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাশে বসে ট্রাম্প আরও বলেন, “আমেরিকা না থাকলে ইজরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলে ওরা থাকতই না, কারণ অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট যে কাজ করতে রাজি ছিলেন না, সেই কাজ আমি করেছি।” যোগ করেন, “অনেক দিন আগেই ইজরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত, যদি বিষয়টিতে আমি না জড়াতাম।”
