পশ্চিম এশিয়ার ভয়ংকর যুদ্ধে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট প্রবল আকার নিয়েছে। ইরানের তরফে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ায় কূটনৈতিক চালে চাপে পড়েছে আমেরিকাও। গুরুতর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছিল দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উড়িয়ে এবার রণহুঙ্কার দিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। জানিয়ে দিলেন, 'শান্তি নয়, এখন সময় বদলার। শত্রুদের জবাব দেওয়ার।'
ইরানের আধিকারিকদের উদ্ধৃতি তুলে ধরে সংবাদ সংস্থা রয়টর্সের তরফে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ থামাতে ও শান্তি প্রস্তাবের লক্ষ্যে ইরানের কাছে প্রস্তাব পেশ করেছিল দুটি দেশ। তবে সে প্রস্তাব পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন মোজতবা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ইরানের বিদেশনীতি ঠিক করতে বৈঠকে বসেন মোজতবা। সেখানেই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে এখন বদলার সময়। শান্তির প্রশ্নই ওঠে না। তেহরান বৈঠকের কথা বললেও এখনও স্পষ্ট নয়, তিনি এই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না।
যুদ্ধ থামাতে ও শান্তি প্রস্তাবের লক্ষ্যে ইরানের কাছে প্রস্তাব পেশ করেছিল দুটি দেশ। তবে সে প্রস্তাব পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন মোজতবা।
এদিকে সময় যত এগোচ্ছে যুদ্ধের ঝাঁজ তত বাড়ছে। মঙ্গলবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির উপর ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয়েছে লারজানির। অন্য একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, তিনি গুরুতর আহত। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অন্যদিকে সোমবার এক হামলায় ইরানের শীর্ষ আধিকারিক জেনারেল গোলাম রেজা সোলেমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
গুরুতর এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হামলার ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছে ইরান। এদিন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর গ্যাস ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে ইরান। বেছে বেছে হামলা চলছে তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি উদ্বেগ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধনীতির অংশ হিসেবে হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এখান থেকেই বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল বাণিজ্য চলে। এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যথেষ্ট চাপে আমেরিকা।
Advertisement
