সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চিন, রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তবেই তেল উত্তোলনে 'অনুমতি' দেবে আমেরিকা। নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল আমেরিকা। তবে আরও একটি শর্তও দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তারা জানিয়েছে, তেল ব্যবসায় শুধু আমেরিকার সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে ভেনেজুয়েলা। অন্য কোনও দেশের সঙ্গে তেলের ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবে না তারা।
সামরিক অভিযান চালিয়ে গত সপ্তাহেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করেছে মার্কিন সেনা। এই পরিস্থিতিতে 'অভিভাবকহীন' ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নিয়ে প্রাথমিক ভাবে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডেলসি। জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলা আমেরিকার 'দ্বাসত্ব' মেনে নেবে না। কিন্তু লাগাতার মার্কিন হুমকির মুখে পড়ে তিনিও সুর নরম করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েই তিনি কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির উপর আরও চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।
বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। কিন্তু সেখানে তেল উত্তোলনের পরিমাণ তুলনায় অনেক কম। এ দিকে, দেশটির অর্থনীতিই দাঁড়িয়ে রয়েছে তেলের ব্যবসার উপর। যা তেল উৎপাদন হয়, তার বেশিরভাগটাই কেনে চিন। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের জেরে সেই ব্যবসা মার খেয়েছে। মার্কিন-অবরোধের জেরে তেল উত্তোলনও প্রায় বন্ধ। যার জেরে একেবারে ধসে যাওয়ার মুখে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাতে চাইছে আমেরিকা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে দু'টি শর্ত দিয়েছে। প্রথম শর্ত, ভেনেজুয়েলা রাশিয়া, চিন, ইরান এবং কিউবার সঙ্গে কোনও অর্থনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে পারবে না। দ্বিতীয় শর্ত, শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গে তেলের ব্যবসা করবে তারা। ভেনেজুয়েলায় যা উৎপাদন হবে, তা তারা বেচবে আমেরিকাকেই। অন্য কোনও দেশকে নয়। এই দুই শর্ত মানলেই অবরোধ তুলে ভেনেজুয়েলায় আবার তেল উত্তোলনের অনুমতি দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। তেল উত্তোলনে ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যও করবে আমেরিকা।
