সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাদক পাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। সেই একই ছকে গাজায় 'সন্ত্রাস' চালানোর অভিযোগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে অপহরণের দাবি জানালেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। শুধু তাই নয়, নেতানিয়াহুকে যারা সমর্থন করছে তাঁদেরও শাস্তির দাবি তুললেন তিনি। বাস্তবে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় সমর্থক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসিফের এহেন মন্তব্য সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সম্প্রতি পাক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অপরাধী বলে তোপ দাগেন। এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা তুলে ধরেন। আসিফ বলেন, "নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় ওয়ান্টেড অপরাধী। আমেরিকা যদিও সত্যিই মানবতা নিয়ে ভাবিত হয় তবে ওদের উচিত ইজরায়েল থেকে এই অপরাধীকে অপহরণ করে আনা। এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা।" এ প্রসঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। আমেরিকা তা না করলে তুরস্কের উপর আশাবাদী পাক মন্ত্রী। বলেন, "তুরস্কও তাঁকে (নেতানিয়াহু) অপহরণ করতে পারে, যদি তা করে তবে আমরা পাকিস্তানিরা এর জন্য প্রার্থনা করব।"
এখানেই থেমে থাকেননি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, "যারা নেতানিয়াহুকে সমর্থন করছে তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।" কারও নাম না নিলেও পাক মন্ত্রীর ইঙ্গিত ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। কারণ গাজা যুদ্ধে শুরু থেকেই মদত ছিল আমেরিকার। এমনকী গাজায় হামলা চালাতে লাগাতার ইজরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে গিয়েছে আমেরিকা। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম মহরম বেশ বেড়েছে আমেরিকার। কার্যত প্রতি মাসেই হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ডিনার করছেন শাহবাজ শরিফ, আসিফ মুনিররা।
শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের মন যোগাতে তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বিনিময়ে পাকিস্তানে বিপুল বিনিয়োগও করছে আমেরিকা। এহেন পাকিস্তানের মন্ত্রীর মুখে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
