সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে ডেনমার্কও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সেই যুদ্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ! ন্যাটো চুক্তি মনে করিয়ে এ কথা বললেন গ্রিনল্যান্ডের 'নিয়ন্ত্রক' ডেনমার্কের এমপি এবং সে দেশের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সন রাসমুস জারলভ।
আমেরিকা হামলা চালালে তা হয়তো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না ডেনমার্কের সেনার পক্ষে, সে কথা স্বীকার করেই জারলভ বলেন, "আমেরিকা সামরিক অভিযান চালালে তা একেবারেই মনে নেওয়া সম্ভব নয়। ন্যাটো গোষ্ঠীর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ একেবারেই বোকামি ও অপ্রয়োজনীয় এবং এর পরিণতিও ভয়াবহ হতে চলেছে।" জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বললেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির কোনও সারবত্তা নেই বলেই জানিয়েছেন জারলভ। তাঁর মত, আমেরিকা চাইলেই গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারে। দু'দেশের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে, তার ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডে খননকাজ করতেই পারে আমেরিকা। ডেনমার্কের এমপি বলেন, "যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন নেই। আশা করছি, এটা আর বেশি দূর গড়াবে না। আবার আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব।"
প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম দফাতেই গ্রিনল্যান্ড কেনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। যদিও সে সময় ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গ্রিনল্যান্ড তারা বিক্রি করবে না। তখনকার মতো বিষয়টি সেখানে থেমে গেলেও, দ্বিতীয় দফায় আবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলতে শুরু করেন ট্রাম্প। ভেনেজুলেয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকা অপহরণ এবং বন্দি করার পরেই ট্রাম্প আবার গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলায় বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। জারলভ আবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড তাঁরা বিক্রি করতে আগ্রহী নন।
হোয়াইট হাউস অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে, বিষয়টি শান্তিপূর্ণ ভাবে না মিটলে তারা প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালাবে। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহেই ডেনমার্কের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-র। এর প্রেক্ষিতে জারলভ বলেন, "এ রকম কিছু ঘটলে ন্যাটো ভেঙে যাবে। কারণ ন্যাটো চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, শরিক দেশগুলিকে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাতে স্বাভাবিক ভাবেই ভেটো দেবে আমেরিকা। তার ফলে ন্যাটো ভেঙে যাবে।"
