হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের একাংশ। জমছে লাশের পাহাড়। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা সরকারি মতে ৭০০ পেরিয়েছে। নিখোঁজ কয়েক হাজার। নিখোঁজদের একটা খবর পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন পরিবারের লোকজন। নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাড়িয়ে দিয়েছে ব্রিটেনের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারকে। তিব্বত যাত্রায় গিয়েছিলেন ওই পরিবারের দুই সদস্য। বিপর্যয়ের পর তাঁদের খোঁজ মিলছিল না। মা ও পিসির খোঁজ পাচ্ছিলেন না তুলসী প্যাটেল। অবশেষে 'টিকটক' ভিডিওর সূত্র ধরে মা ও পিসির শেষ অবস্থান জানতে পেরেছেন তিনি। আশায় বুক বাঁধছেন দু'জনেরই খোঁজ এবার পাওয়া যাবে। কথা হবে মায়ের সঙ্গে।
অনেক আগে থেকেই তুলসীর মা হেমাঙ্গিনী প্যাটেল ও পিসি সুনীল আমিন তিব্বত যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এবার সেই সুযোগ হয়। দু'জনেই এবার তিব্বত যাত্রা করেছিলেন। তিব্বত থেকে নেপাল যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তাও হত। কিন্তু বুধবার সকালের ওই ভয়াল ঘটনার পর থেকে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে হিমবাহ ফেটে হড়পা বান নামে উপর থেকে। ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে নেপালের বহু এলাকা। কাদামাটির তলায় বাড়িঘর। নিখোঁজ স্থানীয় বাসিন্দা-সহ শয়ে শয়ে পর্যটকরা।
জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছে। গতকাল, শনিবার ব্রিটেনের একটি উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে। এদিকে মা ও পিসির খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তুলসী। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করলেও কেউই তথ্য দিতে পারেনি। শেষপর্যন্ত পরিবারের লোকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে খোঁজ চালাতে শুরু করেন। তুলসী প্যাটেলও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মা-পিসির খোঁজ চালাতে শুরু করেন। সেখানেই মিলেছে আশার আলো।
তুলসী জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে একাধিক জায়গায় মা-পিসির খোঁজ চালানো হচ্ছিল। সেখানেই মা ও পিসিকে এক ঝলক দেখতে পান একটি ভিডিওতে। মেয়ে জানিয়েছেন, মা ও পিসির শেষ অবস্থান ছিল নেপাল-চিন সীমান্তের ‘ফ্রেন্ডশিপ সেতু’। সোমবার মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। বুধবার সকালে নেপালের বিপর্যয়ের আগে ওই ভিডিও তুলে পোস্ট করা হয়েছিল। ওই 'টিকটক' ভিডিওতেই মাকে দেখতে পেয়েছেন তিনি। সেখানে দেখা গিয়েছে, অন্যান্যদের সঙ্গে হেমাঙ্গিনী প্যাটেল ও সুনীল আমিন সীমান্ত পেরনোর অপেক্ষায় ওই ব্রিজে রয়েছেন। আবহাওয়ার কারণে তাঁরা আটকে পড়েছিলেন। ওই ঘটনার একঘণ্টার মধ্যেই হড়পা বান গোটা এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মেয়ে আশা করছেন, মা ও পিসি নিরাপদে সীমান্ত পেরতে সক্ষম হয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি আবার যোগাযোগও করবেন। গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অকুস্থলে পৌঁছতে এখনই পারছেন না তুলসী।
