জেন জি'র ভোটে জিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তারপরেই দেশজুড়ে ছাত্র রাজনীতি একেবারে বন্ধ করে দিলেন বলেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর ১০০ দফা কর্মসূচি প্রকাশ করেছেন তিনি। তরুণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যকলাপে ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে, সেই নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে কূটনৈতিক মহলে। উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন 'ভারতবিদ্বেষী' কথা শোনা যেত বলেন্দ্রর মুখে।
গত ২৭ মার্চ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বলেন্দ্র। জেন-জির ‘পোস্টার বয়’, প্রাক্তন র্যাপার ৩৫ বছর বয়সি বলেন্দ্র নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। তিনি শপথ নেওয়ার পর শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধন্যবাদ জানানো হয় নেপাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও। তার দিনতিনেক পরেই জেন জি'র রাজনৈতিক ক্ষমতা কাড়তে চলেছেন বলেন্দ্র, এমনটাই অনুমান। সরকারকে ঢেলে সাজানো এবং নেপালবাসীর স্বার্থপূরণে ১০০ দফা কর্মসূচি নিয়েছেন বলেন্দ্র। তার মধ্যে অন্যতম হল ছাত্র রাজনীতি সমূলে উৎখাত করা।
বলেন্দ্রর আগমন ফের নেপালে রাজতন্ত্র ফেরার জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করেছে বলেন্দ্র প্রশাসন। বিরোধীদের অনেকেই আটক হয়েছেন।
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, ক্যাম্পাসগুলিতে কোনও রাজনৈতিক দলের ছাত্র শাখা থাকবে না। তার বদলে স্টুডেন্ট কাউন্সিল তৈরি হবে, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনও জায়গা থাকবে না। সমালোচকরা মনে করছেন, যে বলেন্দ্র একটা সময়ে নিজের র্যাপের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা শিখিয়েছেন, সেই বলেন্দ্রই এখন প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, বলেন্দ্রর এই পদক্ষেপ আগামী দিনে নেপালের গণতন্ত্রকে শেষ করে দিতে পারে। কারণ ছাত্র রাজনীতি থেকেই আগামী দিনের নেতারা উঠে আসেন। বলেন্দ্রর সিদ্ধান্তে নেপাল থেকে মুছে যেতে চলেছে ছাত্র রাজনীতি।
বিশ্লেষকদের অনেকের আশঙ্কা, বলেন্দ্রর আগমন ফের নেপালে রাজতন্ত্র ফেরার জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করেছে বলেন্দ্র প্রশাসন। বিরোধীদের অনেকেই আটক হয়েছেন। খানিকটা 'স্বৈরাচারী' হয়ে ওঠা বলেন্দ্রর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন থাকবে, সেই নিয়েও থাকছে চিন্তার ভাঁজ। কাঠমাণ্ডুর মেয়র থাকাকালীন তিনি দাবি করেছিলেন, হিমালয় পর্বত সংলগ্ন এলাকায় ভারতের 'একাধিপত্য' মানবেন না। ভারতের সঙ্গে তিনি কেমন সম্পর্ক রাখেন, নজর থাকবে।
