সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রবিবার তালিবান সরকারের তরফে দাবি করা হয়, তাদের মারে ৫৮জন পাক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। খানিক পরে পাক সেনার দাবি, পাকিস্তানের আঘাতে অন্তত ২০০জন তালিবান সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও তালিবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহতের সংখ্যা ৯। তবে আপাতত আফগানিস্তানের তরফে সংঘর্ষ থামানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।
শনিবার রাতে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালায় তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগান সেনা। ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১৫ জন পাক জওয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তালিবান দাবি করছে সেই সংখ্যাটা আসলে ৫৮। শুধু তাই নয়, ডুরান্ড লাইন বরাবর কুনার এবং হেলমান্দ প্রদেশ-সহ বেশ কিছু জায়গায় থাকা পাক সেনার আউটপোস্টও দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আফগান সেনা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার কাবুলে পাক সেনা যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, তার প্রতিশোধ নিতেই পালটা পাকিস্তানের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে।
তালিবানের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই মুখ খুলেছে পাক সেনা। বিবৃতি জারি করে সেনার তরফে বলা হয়, পাকিস্তানের আঘাতে ২০০রও বেশি তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মূলত আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় তালিবান যোদ্ধাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবি। সেই সঙ্গে পাক সেনার ২৩ জন কর্মীর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে। যদিও তালিবানের তরফে সরকারিভাবে জানানো হয়, ৯জন যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের হামলায়।
উল্লেখ্য, শনিবার থেকে আফগানিস্তানের হামলায় পাক সেনার 'বিপর্যয়ে'র পরেই মুখ খুলেছে পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ সৌদি আরব। তারা দুই দেশকেই সংঘাতে না গিয়ে সংযম দেখানোর বার্তা দিয়েছে। জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। সদ্য স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপর হামলা হলে তার পালটা দেবে সৌদিও। তাদের বার্তা শুনে আপাতত পাকিস্তানে আক্রমণ স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে তালিবান। তবে আফগানিস্তানে হামলার কথা স্বীকার করেনি পাকিস্তান।
