মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে বিশ্ব ! হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ করে গোটা বিশ্বকে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের (Oil Crisis) মুখে ফেলছে ইরান। পাশাপাশি, পড়শি দেশগুলির তেল উৎপাদন ও সংশোধন কেন্দ্রগুলিতেও লাগাতার হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে এতটাই ধাক্কা লেগেছে যে, শুধু ভারত নয়, প্রায় দশটি দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার নিতে চলেছে। যার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান (Pakistan)। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, জ্বলানি বাঁচাতে কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটেছে দেশটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চললে, বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। এই পরিস্থিতির জেরে খাদের কিনারায় পড়শি দেশের অর্থনীতি। জ্বালানি বাঁচাতে কার্যত ‘লকডাউন’-এর পথে হাঁটছে পাকিস্তান। স্কুল বন্ধ করে সরকারি অফিসে কাজের দিন কমিয়ে দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুধু তাই নয়, দু মাস সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে রেশনিং চালু করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বদলাচ্ছে অফিসের সময়সূচি।
ইউরোপেও বিভিন্ন দেশের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মায়ানমারে যানবাহনের জন্য জোড়-বিজোড় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনেক জায়গায় জ্বালানির অভাবে পাম্প বন্ধ। মায়ানমারের অনেকে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন তেল কিনতে। আমেরিকার ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানায় গ্যাস পাম্পে দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১১ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। ভিয়েতনামে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
সংবাদ সংস্থার খবর, জ্বালানি সংকটে জর্জরিত দিশাহারা পাকিস্তান। তাই চলতি সপ্তাহ শেষ হতেই পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বদলাচ্ছে অফিসের সময়সূচি। ব্যাঙ্ক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের ভাতা কমানো হয়েছে।
