পাকিস্তানের অশান্ত বালোচিস্তান প্রদেশে বালোচ বিদ্রোহীদের উপরে হামলা চালাল পাক সেনা। ওই প্রদেশের পাঞ্জগুর জেলার চিদগি অঞ্চলে ওই সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে কোয়েটায় পুলিশের হাত থেকেই অস্ত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে বিদ্রোহীরা, এমন খবরও মিলেছে। সব মিলিয়ে ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা করেছে বালোচিস্তান (Balochistan)। দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। তার মধ্যেই এই হামলা। আলাদা আরেকটি ঘটনায়, গত ৮ আগস্ট রাতে কোয়েটার কাম্বারানি রোডে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা পুলিশের 'ঈগল স্কোয়াড'-এর সদস্যদের পথ রোধ করে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহতও হন। পাক পুলিশের অভিযোগ, বিদ্রোহীরা পুলিশকর্মীদের হাত বেঁধে ফেলে এবং এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে তাদের অস্ত্রগুলো ছিনিয়ে নেয়। গোটা ঘটনায় কোয়েত্তা পুলিশের মুখ পুড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এরপর কোয়েত্তায় পুলিশ প্রহরা আরও বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যেই সোমবার পাক সেনার হামলা পাঞ্জগুর জেলায়।
উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই অঞ্চলে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে পাক সেনাকে। এই অবস্থায় পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। তারই প্রতিবাদে স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে নামে সেখানকার মানুষ।
