ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আক্রান্ত চার স্থানীয় শান্তি রক্ষা কমিটির সদস্য। লাগাতার লড়াইয়ের জেরে এবার কি গৃহযুদ্ধে ছারখার হবে ভারতের প্রতিবেশী দেশটি? এই প্রশ্নটিই এখন জোরাল হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই জেলার সঙ্গে সীমানা রয়েছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের। অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা, মাজাং চকের কাছে গাড়ি আটকায়। সেখানেই স্থানীয় শান্তি রক্ষা কমিটির চার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে তারা। এই সময় পথচলতি একজন সাধারণ মানুষের গায়েও গুলি লাগে। পরবর্তীকালে, হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌছায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। এলাকা ঘিরে ফেলে আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালু করা হয়েছে। নিহত আধিকারিকদের মৃতদেহ স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান প্রদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এই সংখ্যা। এইসব এলাকাগুলিতে মূলত পুলিশ, সরকারি আধিকারিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
গত মাসেই, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাক সেনার কনভয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি)। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন পাক সেনার। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের মাথাব্যাথার অন্যতম বড় কারণ এই আফগানিস্তানের মদতপুষ্ট টিটিপি। খাইবার পাখতুনখোয়া, বালুচিস্তান-সহ পাক-আফগান সীমান্ত এদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। যার জেরে এইসব অঞ্চল থেকে প্রায়শই পাক সেনাবাহিনীর উপর চলে মারণ হামলা।
