বাল্যবিবাহ (Child Marriage) বন্ধ করা শরিয়ত বিরোধী পদক্ষেপ! এমনই অভিযোগ তুলে বাল্যবিবাহের পক্ষে সরব হল পাকিস্তানের (Pakistan) মৌলবিরা। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার সংসদে বিল পাশ করলেও তা মানা হবে না বলে জানিয়ে দিলেন জামাত প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান। তাঁর অভিযোগ ইসলাম বিরোধী পদক্ষেপ করছে।
পাকিস্তানের মাটিতে বাল্যবিবাহ একটি সাধারণ ঘটনা। মধ্যযুগীয় রীতি মেনে ৭-৮ বছর বয়স হলেই এখানে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর ভয়াবহ পরিণতি ভুগতে হয় মেয়েদের। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর এখানে ১৯ মিলিয়নের বেশি নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে লাগাম টানতে কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছিল শাহবাজ শরিফের সরকার আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গত বছর সংসদে পেশ হয়েছিল বিল। যেখানে বলা হয় ১৮ বছরের নিচে কোনও মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না।
এই বিল পেশ হতেই পাক সরকারের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে মাঠে নামল কট্টর মৌলবাদীরা। পাকিস্তানে জামাত উলেমা-ই-ইসলাম-এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান বলেন, ''পাকিস্তান সরকার ইসলাম বিরোধী পদক্ষেপ করছে। বাল্যবিবাহ ইসলামে বৈধ তা বন্ধ করা আসলে শরিয়ত বিরোধী পদক্ষেপ। আমরা কোনওভাবেই এই আইন মানব না।'' তাঁর আরও বার্তা, "আমি নিজে ১০ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে দেব। দেখি আমায় কে আটকায়।" তাঁর আরও দাবি, এই সবের মাধ্যমে পাকিস্তানের ইসলাম পরিচয়কে খর্ব করার চেষ্টা চলছে। কোনওভাবেই এটা মেনে নেওয়া হবে না। বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়িত করতেই তাড়াহুড়ো করে এই বিল পাশ করানো হয়েছে। এই আইনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওই মৌলবাদী সংগঠন।
উল্লেখ্য, গত বছর পাকিস্তানের সংসদে পাশ হয়েছিল বাল্যবিবাহ বন্ধের এই বিল। সংসদের উভয়কক্ষে সেটি পাশ হওয়ার পর। বিলটিতে সাক্ষর করে আইনে পরিণত করেন পাক রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি। নয়া আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কারও বিয়েকে আইনত অবৈধ বলে ঘোষণা করা হবে। বিয়ের আগে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হবে। যা ১৮ বছরের বেশি হলেই পাওয়া যায়। পরিচয়পত্র যাচাই না করে বিবাব দেওয়া হলে অভিযুক্তকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ পাকিস্তানি মুদ্রা জরিমানা করা হবে। শুধু তাই নয়, নাবালিকাকে বিয়ে করলে অভিযুক্তের সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। বাল্যবিবাহকে 'শিশু নির্যাতন' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যার জন্য পাঁচ থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং দশ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
