অপারেশন সিঁদুরে মার খেয়েও শিক্ষা হয়নি পাকিস্তানের। এবার নিজেই নিজেকে রক্তাক্ত করে ভারতকে কাঠগড়ায়া তুলতে চাইছে ইসলামাবাদ। পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে বিরাট ষড়যন্ত্র করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সূত্র মারফত এমনটাই জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, চলতি মাসেই পাকিস্তানে এক বা ধারাবাহিক কিছু হামলা হতে পারে। যার নেপথ্যে থাকবে খোদ ISI। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশজুড়ে আশান্তিও সৃষ্টি করা হতে পারে। আর এই সমস্ত কিছুর জন্য দায়ী করা হবে ভারতকে। এমনই ষড়যন্ত্র করছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন আদায় বা কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্যই এমন ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল ব্যবহার করার ছক করছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে ‘বহিরাগত শত্রু’র তত্ত্ব খাড়া করে জনগণকে একত্রিত করারও ছক করছে ইসলামাবাদ। যদিও এই গোটা বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারত এই ধরনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
আবার অপর একটি সূত্রের খবর, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তি কিংবা তার পর ভারতে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলারও পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই নাকি জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা-র পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি সক্রিয় হতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, নয়া হামলায় নিশানা করা হতে পারে দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিকে। তবে বাদ নেই জম্মু ও কশ্মীরও। সূত্রের খবর, ভূস্বর্গে ইতিমধ্যেই আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লাগাতার চলছে জঙ্গি দমন অভিযান।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একধিক বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
