ফেলো কড়ি মাখো তেল...। এ ক্ষেত্রে অবশ্য মাখার কথা নয়, বয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজা ইস্তক আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এবার সেই হরমুজ দিয়ে তেল বহনের জন্য টোল ট্যাক্স অর্থাৎ বহন কর বসানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই নিল ইরান। হরমুজ দিয়ে যাতায়াতে আমেরিকাকেও নগদ কড়ি খসিয়েই পার করতে হবে জাহাজ।
ইতিমধ্যে হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতের পতাকাবাহী ১৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। ভারতকে বন্ধু দেশের তকমা দিয়ে হরমুজ পার হওয়ার অনুমোদন দিয়েছে তেহরান। কিন্তু তার পরেও তা সম্ভব হচ্ছে না সহজে। আরও দশটি জাহাজ পারস্য সাগরে আটকে রয়েছে। ফলে বড় প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারে। ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেল বহন করে ভারতে পৌঁছেছে মাত্র চারটি জাহাজ, যা দেশের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ভারতের জাহাজগুলি-সহ প্রায় পাঁচশো জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলার উপর টোল বসানোর পরিকল্পনা করে রেখেছিল। এবার তা বাস্তবায়িত হল। হরমুজে জাহাজ যাতায়াতের জন্য চড়া হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নিল ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এটি। ইরান-ইজরায়েল সংকটের মধ্যে এই অংশটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আর ঠিক এহেন পরিস্থিতিতেই তেহরানের সিদ্ধান্ত, ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির উপর বেশি হারে টোল আরোপ করা হতে পারে। ওমানের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে ইরান এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে।
পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েলের জাহাজগুলিকে এই প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিল ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে নতুন করে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনায় সবুজ সংকেত দিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শুধু টোল নয়, এর সঙ্গে জাহাজ চলাচলের নতুন প্রোটোকল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে। একইসঙ্গে যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের জাহাজগুলি নিয়েও কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভাবনা চিন্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত। নতুন টোলের বিষয়ে বিস্তারিত না জানা গেলও জাহাজ পিছু টোলের পরিমাণ জাহাজ পিছু এই খরচের পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে খবর। যুদ্ধের খরচ তোলার জন্য ইরান এই নতুন নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
