আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে গিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা। তারপরই ইরানে ওয়াশিংটনের স্থল অভিযান নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করল ইরান। একটি বার্তায় সে দেশের সেনা বলেছে, “আসুন, আপনাদের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।”
মঙ্গলবার ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সে দেশের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। ৫৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করছেন ইরানি সেনারা। চলছে বোমাবর্ষণ। পালটা জবাব দিচ্ছে বাহিনীও। অর্থাৎ নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে তেহরান। ভিডিওর শেষে একটি বার্তা দেখা ফুটে ওঠে। যেখানে লেখা, ‘আসুন, আমরা আপনাদের অপেক্ষায় রয়েছি।’ বলা বাহুল্য, এই চ্যালেঞ্জ আমেরিকাকেই দিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, ইরানের উপর জোরাল আঘাত হানতে ‘জলদানব’ ইউএসএস ত্রিপোলিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, সেটিতে রয়েছে প্রায় ২৫০০ মেরিন সেনা (নৌসেনা)। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলিকে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হতে দেখা গিয়েছে। এর পাশাপাশি দেখা গিয়েছে আরও দুই যুদ্ধ জাহাজকে। তবে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নাকি ত্রিপোলি পৌঁছে গিয়েছে নিজের গন্তব্যে। যদিও ইরানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিতে এখনও অনুমোদন দেননি ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, তিনি এই মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
ইরাক, আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য? উত্তর হল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ইরানে স্থল অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৩ সালে যখন ইরাকে সেনা পাঠিয়েছিল আমেরিকা তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল ইরাক। কোমড় ভেঙে গিয়েছিল সে দেশের সেনাবাহিনীর। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ইরান অনেক বড় দেশ, জনসংখ্যা বেশি এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামোও অনেক বেশি সংগঠিত এবং উন্নত। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ভিতর প্রবেশ করে হামলা চালালে বহু ‘ফ্রন্টে’ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইরানের পাশে দাঁড়াবে লেবাননের হেজবুল্লা এবং ইয়েমেনের হাউথি-র মতো সসস্ত্র সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে, এধরনে যুদ্ধ প্রচুর ব্যয়বহুল। খরচ হতে পারে শত শত বিলিয়ান ডলার। এর জেরে চাপ পড়তে পারে আমেরিকার অর্থনীতিতে। ফলে নিজ ভূমেই কোণঠাসা হতে পারেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়, এত বড় মাপের অভিযানের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে একযোগে আমেরিকার বিরুদ্ধে চলে আসবে সিংহভাগ দেশই।
