বিশ্বকে লুকিয়ে ইরানের ঘরে ঢুকে মারণ হামলা চালিয়েছিল প্রতিবেশী সৌদি আরব (Saudi Arabia)। মার্চ মাসের শেষের দিকে অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে ইরানে এয়ার স্ট্রাইক চালায় সৌদি আরবের বায়ুসেনা। সৌদিতে ইরানের হামলার জেরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ইরানের দুই আধিকারিকের পাশাপাশি পশ্চিমি দেশের তরফেও এই তথ্যে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের তরফে ইরানের মাটিতে হামলা চালানোর পর, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন জ্বালায় তেহরান। নিশানায় বিশেষভাবে ছিল সৌদি আরব। রিয়াদ-সহ সৌদির একাধিক জায়গায় চলেছিল হামলা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের জবাবেই পালটা হামলা চালানো হয় সৌদি আরবের তরফে। ইরানের মধ্যে ঢুকে দেশটির বায়ুসেনা বহু জায়গায় বোমা নিক্ষেপ করে। তবে ঠিক কোথায় কোথায় এই হামলা চালানো হয়েছিল সে বিষয়ে বিশদে জানা যায়নি। সৌদি আরব এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও রয়টর্স সূত্রের খবর, পরে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে সম্মত হয়।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের জবাবেই পালটা হামলা চালানো হয় সৌদি আরবের তরফে।
এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও গোপনে ইরানের উপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের লাভান দ্বীপের তৈল সংশোধনাগার। এটি ছিল ইরানের দশম বৃহত্তম তেল শোধনাগার। এখান থেকে দিনে প্রায় ৬০,০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হত। শুধু তাই নয়, হামলা এমন সময়ে ঘটে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছিলেন।
আমিরশাহী ও সৌদি আরবের তরফে ইরানে হামলার তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ, এতদিন ধরে বিশ্ব জানত যুদ্ধ চলছে ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও আমেরিকার। মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশগুলি যুদ্ধে প্রবেশ করেনি। বরং ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উপর হামলা চালিয়ে আসছে। সেখানে আমিরশাহী ও সৌদি আরবের তরফে ইরানের হামলার তথ্য স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে শুরু করেছে। যদিও কোনও দেশের তরফেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
