পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। ভয়ংকর এই ভূমিকম্পের জেরে রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আতঙ্কে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকায় আঘাত হানা এটিই শতাব্দীর জোড়া ভূমিকম্প।
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দু'টি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। ঠিক তার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে আরও একটি শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এটির উৎস্থলও ওই একই জায়গায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় শক্তিশালী ওই ভমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। ভয়ংকর এই ঘটনায় বহু মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানানো হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, কারাকাস-সহ একাধিক এলকায় ভেঙে পড়েছে বহু বাড়িঘর। ছাদহীন বহু পরিবার। ধ্বংসস্তূপের একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)।
ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, কারাকাসে বহু ভবন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন মানুষজন। কোথাও কোথাও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ধ্বংসস্তূপের জেরে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তা। জোড়া ভূমিকম্পের পরই কারাকাসের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু মোবাইল ফোনের টাওয়ারও। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। জাতির উদ্দেশে ভাষণে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ জানান, ভূমিম্পের ফলে দেশের বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও তথ্য তিনি উল্লেখ করেনি।
