অ্যাপেলের সিইও পদ থেকে সরছেন টিম কুক। ২০১১ সাল থেকে এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত বছর ধরে কুকের সময়কালে আড়ে-বহরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে অ্যাপেল। জানা যাচ্ছে, দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা করলেও আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্বে থাকবেন তিনি। তারপর বোর্ডের এক্সজিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হবেন। কুকের পর অ্যাপেলের পরবর্তী সিইও হচ্ছেন জন টার্নাস।
অ্যাপেলকে উদ্দেশ্য করে এক চিঠিতে কুক জানিয়েছেন, 'অ্যাপেলের সিইও পদে থাকা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য। আমি অ্যাপেলের সকল গ্রাহকদের কাছে কৃতজ্ঞ। এমন একটি সংস্থার প্রধান হওয়া যা কল্পনাকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং জীবনকে এমন গভীরভাবে সমৃদ্ধকরে যা বর্ণনাতীত। এটি এক অনন্য সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়।' পাশাপাশি তাঁর পরিবর্তে যিনি অ্যাপেলের সিইও হচ্ছেন সেই জন টার্নাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন কুক। লেখেন, 'জন টার্নাস একজন মেধাবী প্রকৌশলী ও চিন্তাবিদ। যিনি গত ২৫ বছর ধরে আমাদের গ্রাহকদের অত্যন্ত পছন্দের পণ্যগুলি তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে অত্যন্ত মনোযোগী এবং কোনও কিছুকে আরও উন্নত, সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলায় তাঁর জুড়ি নেই। তিনি এই পদের জন্য একেবারে নিখুঁত একজন ব্যক্তি।'
আইফোন সংস্থায় ১৯৯৮ সালে যোগ দিয়েছিলেন কুক। এরপর নিজের দক্ষতায় ধাপে ধাপে তিনি উঠে আসেন সিইও পদে।
উল্লেখ্য, আইফোন সংস্থায় ১৯৯৮ সালে যোগ দিয়েছিলেন কুক। এরপর নিজের দক্ষতায় ধাপে ধাপে তিনি উঠে আসেন সিইও পদে। কুকের আগে ২৫ বছর ধরে এই পদে ছিলেন স্টিভ জোবস। ২০১১ সালে তিনি সিইও পদ ছেড়ে দেওয়ার পর দায়িত্বে আসেন কুক। গত ১৫ বছরে কুকের হাত ধরে অ্যাপলের বাজার দর বেড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। গত অর্থবছরে অ্যাপলের বার্ষিক বিক্রি প্রায় চারগুণ বেড়ে ৪১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তাঁর আমলেই অ্যাপল ওয়াচ, অ্যাপল মিউজিক এবং অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো পরিষেবা চালু হয়।
কুকের জায়গায় যিনি অ্যাপেলের সিইও হচ্ছেন সেই জন টর্নাস এতদিন অ্যাপেলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়র পদে ছিলেন। এবার তিনি উঠে এলেন সিইও পদে। অন্যদিকে, বর্তমানে আর্থার লেভিনসন অ্যাপলের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন সেপ্টেম্বরে। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হবেন টিম কুক।
