“আজ রাতের মধ্যে গোটা একটা সভ্যতার মৃত্যু হবে।” ইরানকে এমনই হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও শেষমেশ তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু যে সময় ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছিলেন, তার অব্যবহিত পরে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, ইরানে কি পরমাণু বোমা ফেলবে আমেরিকা? সিআইএ-র প্রাক্তন এক কর্তা দাবি করেছেন, একেবারেই তেমন পরিকল্পনা করছিলেন ট্রাম্প!
সিআইএ-র প্রাক্তন ওই বিশ্লেষকের নাম ল্যারি জনসন। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে ব্লগ লেখেন তিনি। আর সেই ব্লগেই জনসন দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। গুড ফ্রাইডের দিন ভেঙে পড়েছিল দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। আর এই ঘটনায় নাকি ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের। কিন্তু মার্কিন সেনার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেন তাঁকে আটকান। জনসনের দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকেই এই ঘটনাটি ঘটেছিল। ল্যারির দাবি, জেনারেল ড্যান কেন বাধা দিলেও তা সহজে মানেননি ট্রাম্প। রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় দু'জনের মধ্যে। এমনকী, কেন নাকি বৈঠক ছেড়ে চলেও যান। তবে সেদিন সত্যিই কোনও আপৎকালীন বৈঠক বসেছিল কিনা তা হোয়াইট হাউসের কোনও সূত্র নিশ্চিত করেনি।
গুড ফ্রাইডের দিন ভেঙে পড়েছিল দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। আর এই ঘটনায় নাকি ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের।
যদিও বিমান ভেঙে পড়ার বিষয়টি ট্রাম্প লঘু করে দেখাতে চাইছিলেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে ঘটনাগুলি যুদ্ধবিরতির আলোচনার উপরে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তখন তিনি বলেন, “না, একদমই না। এটা একটা যুদ্ধ।” কিন্তু আসলে তিনি কতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন তা স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক রিপোর্টে। দাবি, তিনি নির্দেশ দেন, ”এখনই আটকে পড়া মার্কিন বিমান চালকদের উদ্ধার করতে হবে।” ওয়ার রুমে উপস্থিত বাকিরা বুঝতে পারছিলেন, এভাবে পদক্ষেপ করা যাবে না। কেননা দীর্ঘদিন ইরানের ভিতরে কোনও অভিযান চালায়নি আমেরিকা। পাশাপাশি ভিতরে প্রবেশ করে ধরা না পড়াটাও চ্যালেঞ্জ। কাজেই সব পদক্ষেপ বুঝেশুনে করতে হবে। কিন্তু নাছোড়বান্দা ট্রাম্পকে সেসব বোঝানো দায় হয়ে উঠেছিল। যদিও তাঁকে সেখান থেকে সরানোর পর দ্রুত পরিকল্পনা সারা সম্ভব হয়।
