ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিল ইরান (Iran)। শুধু তা-ই নয়, সাজাপ্রাপ্তরা মোসাদের নীলনকশায় তেহরানকে রক্তাক্ত করারও ছক করেছিল বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’।
‘মিজান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই যুবকের নাম মহম্মদ মাসুম শাহী এবং হামেদ ভালিদী। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা মোসাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেই যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়। যুদ্ধ সংক্রান্ত ইরানের গোপন কৌশল এবং নথি তাঁরা তেল আভিভের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে দাবি। ‘মিজান’-এর প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে, মাসুম এবং হামেদ ইরাকের কুর্দিস্থান-সহ বিভিন্ন বিদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’, শত্রু গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন আইনে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ আদালত সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
বিটা হেম্মাতি। ছবি: সংগৃহীত।
এদিকে গত জানুয়ারি মাসে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসাবে চারজনকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে ইরান। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা। তাঁর নাম বিটা হেম্মাতি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় এই প্রথম কোনও মহিলাকে ফাঁসির সাজা শোনাল ইরান সরকার। যদিও তাঁদের মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর করা হয়নি। প্রসঙ্গত, সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইরানে এখনও পর্যন্ত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, সমাজে ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসাবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে ইরান সরকার।
