শুল্কযুদ্ধ ও মার্কিন আগ্রাসনের মাঝে ট্রাম্পের নাকের ডগায় মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। বিষয়টি যে একেবারেই পছন্দ হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এবারে তা স্পষ্ট হয়ে গেল। এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতি ওদের কাছে ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে ভারতের সঙ্গে মুক্তি বাণিজ্য চুক্তি বড় হয়ে গেল!
ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম মার্কিন কোষাগার সচিব স্কট বেসান্ত ভারত-ইউরোপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মুখ খোলেন বুধবার। তিনি বলেন, "ইউরোপ এবং ভারত এই বিশাল বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করছে। এভাবে কি আমেরিকা হুমকি দেওয়া হচ্ছে? অবশ্যই তাদের সেটাই সরা উচিত যা তাদের জন্য ভালো।" এর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার কাছে ইউরোপীয়দের কাজ খুবই হতাশাজনক বলে মনে হয়েছে, কারণ তারা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রথম সারিতে রয়েছে।" অন্যদিকে ভারতকে জড়িয়ে ইউরোপের দেশগুলিকে একহাত নিয়ে বেসান্ত বলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে, আবার ভারতের থেকে ইউরোপের দেশগুলি পণ্য কিনছে। তলিয়ে দেখলে ইউক্রেন তথা ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আর্থিক মদত দিচ্ছে ইউরোপ নিজেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম মার্কিন কোষাগার সচিব স্কট বেসান্ত ভারত-ইউরোপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মুখ খোলেন বুধবার।
মার্কিন কোষাগার সচিবের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট ভারত-ইউরোপ মুক্তি বাণিজ্য চুক্তির ফলে কূটনৈতিক ভাবে অস্বস্তিতে পড়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ডের ট্রাম্পের চাপানো অতিরিক্ত শুল্কের বিরুদ্ধে যেমন কড়া জবাব দিতে পেরেছে দিল্লি। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের উত্তর দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলিও। যদিও এখনও অবধি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই চুক্তি সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এক বিরাট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যাকে বিশ্ব মাদার অফ অল ডিলস বলে উল্লেখ করেছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের নাগরিকদের জন্য এক বিরাট সুযোগ তৈরি করবে। এই চুক্তি বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। আমাদের এই চুক্তি গোটা বিশ্বের মোট ডিজিপির ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” এমনিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য সহযোগী। রিপোর্ট বলছে, ২০২৩-২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের। অনুমান করা হচ্ছে, নয়া এই চুক্তি মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে আরও জোয়ার আনবে।
