ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক এবং বাণিজ্যনীতির কারণে আমেরিকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত! এমতাবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সঙ্গে বড় বাণিজ্যচুক্তিও সেরে ফেলেছে তারা। শুধু তা-ই নয়, সেই চুক্তিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে নয়াদিল্লিই। এই মর্মেই নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ।
ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিনিধিদলের সদস্য জেমিসন গ্রিয়ার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমায় মনে হয়, ভারতই সবচেয়ে লাভবান হয়েছে। সত্যি বলতে ইউরোপের বাজার প্রায় পুরোটাই খুলে গেল ভারতের জন্য। নিশ্চিত ভাবে জানি না। তবে যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে ভারত অতিরিক্ত অভিবাসন সংক্রান্ত অধিকারও পাবে এই চুক্তিতে। ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বাড়বে। এতে ভারতের উপকার হবে। আবার ভারতেই কম খরচের শ্রমিক পাওয়া যায়।"
অনেকের মত, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি খানিক আফসোসও হচ্ছে আমেরিকার। কারণ ভারত একপ্রকার আমেরিকার বিকল্প বাজার পেয়ে গেল। ফলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যে কৌশলে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তা আর কতটা কাজ করবে, সন্দেহ রয়েছে তাতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও বিঁধেছেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ গ্রিয়ার। তিনি বলেন, "মুক্ত বাণিজ্যনীতির কিছু খারাপ দিক রয়েছে। আমেরিকা তা শোধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নীতিতেই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।"
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ট্রাম্পের যখন তখন বিভিন্ন দেশে শুল্ক চাপানো এবং রক্ষণশীল নীতির ফলে এমনিতেই অনিশ্চিত বিশ্ব বাণিজ্য। এর জেরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ঘিরেও। উলটে ট্রাম্পের ৫০% শুল্ক ঘাড়ে চাপায় মোদি সরকারকে পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজতে হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দর কষাকষি চূড়ান্ত করে ফেলল। যাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন ‘মাদার অব অল ডিলস’ তকমা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দর কষাকষি শেষ হওয়ার রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে সই হয়েছে। চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হবে পরে। তার পরে খতিয়ে দেখা হবে তার আইনি দিকগুলি। ইইউ-র ২৭টি দেশ চুক্তিতে সায় দিলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের পরে হবে সইসাবুদ। তার পরে শুরু হবে মুক্ত বাণিজ্য। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই বাণিজ্যচুক্তির হাত ধরে ভারতের রপ্তানির ৯৯.৫ শতাংশে ইইউ শুল্ক কমাবে। প্রায় ৯০% ক্ষেত্র শুল্কহীন। এর মধ্যে বস্ত্র, চামড়া, জুতো, চা-কফি, মশলা, খেলনা, রত্ন-অলঙ্কারের মতো ক্ষেত্র আছে, যেখানে বিপুল কর্মসংস্থান হয়। রপ্তানির অঙ্ক প্রায় ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। এখন শুল্ক চাপে ৪-২৬ শতাংশ। এত দিন বাংলাদেশ যে ভাবে বিনা শুল্কের সুবিধা নিয়ে ইইউ-তে বস্ত্র বেচেছে, ভারতও তা পারবে। অন্য দিকে ভারত ইইউ থেকে আমদানির ৯০% ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেবে। ফলে জার্মানির মতো দেশে তৈরি ২৫ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়ি থেকে ইউরোপের ওয়াইন, মদ ভারতে সস্তায় মিলবে।
