সরকার-বিরোধীতার ‘শাস্তি’! ইরানের জেলে ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার দুই যমজ বোন। পরিবারের দাবি, দিনের পর দিন জেলে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। তাঁদের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। ভেঙে গিয়েছে হাত-পায়ের একাধিক হাড়। এমনকী দুই বোনের মাথার চুলও উপড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসফাহানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারানেহ রহিমি এবং তাঁর বোন রোমিনা রহিমি। এর এক মাস পর একদিন গভীর রাতে বাড়ি থেকে তাঁদের ‘অপহরণ’ করে নিয়ে যান কয়েকজন মুখোশধারী যুবক। কিন্তু পরে জানা যায়, তাঁরা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য। এরপর প্রায় চার মাস দুই বোনের কোনও খোঁজ ছিল না। হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে খোঁজেন তাঁদের মা মারজিয়াহ নুরমোহাম্মাদি। অবশেষে জানতে পারেন, তাঁর মেয়েরা সফাহানের দৌলতাবাদ জেলে বন্দি।
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মে মাসে দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান মারজিয়াহ। কিন্তু প্রথম দেখাতে মেয়েদের চিনতেই পারেননি তিনি। মারজিয়াহর দাবি, তাঁদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ফুলে গিয়েছিল মুখমণ্ডল। শুধু তাই নয়, তাঁদের হাত-পায়ের হাড় ভেঙে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। উপড়ে ফেলা হয়েছিল মাথার চুলও। জানা গিয়েছে, দুই বোনকেই পৃথক দু’টি নির্জন কারাগারে রাখা হয়। এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে তাঁদের চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, দিনের পর দিন নির্যাতন করে তারানেহ এবং রোমিনার স্বীকারোক্তি আদায় করে সরকার। এমনকী তাঁদের ধর্ষণেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, তারানেহকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। অন্যদিকে, রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।
