বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স এবং ব্রিটেন! শীঘ্রই তারা তাদের দেশের কিশোর-কিশোরীদের উপর সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
জানা গিয়েছে, ১৫ বছরের কম বয়সি কিশোর-কিশোরীদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করার কথা ভাবছে ফ্রান্স। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু বিল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে সেই দেশে। এমনকী একটি বিলে সমর্থনও করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে এখনও পাকাপাকি কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে খবর। অন্যদিকে, ব্রিটেনও চাইছে ১৫ বা ১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে। তবে এবিষয়ে তারা মনোবিদদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আবার অনেকের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঠেকাতে এই নিয়ম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কিন্তু কেন এই নিয়ম আনার কথা ভাবছে ফ্রান্স এবং ব্রিটেন? সূত্রের খবর, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ায় অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, যৌনতার ফাঁদে পা দিয়ে বহু কিশোর প্রতারণার শিকার হচ্ছে এবং ভুল পথে চালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ১০ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে এই আইন। কোনও প্রতিষ্ঠান এই আইন না মানলে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই জরিমানা কেবল সংস্থাগুলির জন্যই। কোনও নাবালক কিংবা তার অভিভাবককে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ইউটিউব কিডসের মতো মাধ্যমকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।
